নারায়ণগঞ্জের দুই নম্বর বাবুরাইলে একই পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার সকালে ওই ঘটনায় নিহত তাসলিমার স্ত্রী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হয়নি। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও স্তব্ধভাব কাটছে না। ইতোমধ্যেই রবিবার সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন র্যাবের ডিআইজি বেনজির আহমেদ এবং পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান। তারা উভয়েই মনে করছেন, পরিবারটির এক পুরুষ ও দুই নারীকে হত্যা করার পর সে ঘটনার যেন কেউ সাক্ষী দিতে না পারে সেজন্য দুই শিশুকে হত্যা করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বেনজির আহমেদ বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হতে পারে পারিবারিক দ্বন্দ্ব। তবে আমরা বেশ কিছু কারণকে সামনে রেখে তদন্ত করছি। আশা করছি, এ ঘটনায় জনমনে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে তা দূর করতে আমরা সক্ষম হবো।'
একইসঙ্গে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেন, ‘পাঁচ জনের হত্যাকাণ্ডের ধরন একই। তাদেরকে হয়তো শ্বাসরোধ করে অচেতন করার পর গলাকেটে হত্যা করা হয়। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসার আগে কিছু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’ ঘটনার ক্লু ও ঘাতকদের শনাক্তে যত পদ্ধতি আছে পুলিশ তা ব্যবহার করছে বলেও জানান তিনি।
এসময় তাদের সঙ্গে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মোহিত উদ্দিন।
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে দুই নম্বর বাবুরাইল এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাট থেকে দুই শিশুসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- তাসলিমা বেগম (৪০), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), ভাই মোরশেদুল (২৫) ও তাসলিমার জা লামিয়া (২৫)।
/এসএম/এফএ/








