মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে আমানত শাহ নামের রো-রো ফেরি ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ব্যাপারে মিডিয়ার সামনে তদন্ত কমিটির কোনও সদস্য কথা বলতে রাজি হননি।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুলতান আব্দুল হামিদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের এই তদন্ত গঠিত হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন বিআইডব্লিউটি-এর পরিচালক (আইসিটি) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, নৌপরিবহন অধিদফতরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার অ্যান্ড এক্সামিনার ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ, মানিকগঞ্জ স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক, বুয়েটের নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. জুবায়ের ইবনে আউয়াল, ফরিদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (কারিগরি) মো. রাশেদুল ইসলাম।
কমিটি ডুবে যাওয়া ফেরির মাস্টার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং ফেরিতে থাকা ট্রাকের চালক ও মালিকদের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলেছে।
সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে ঘটনাস্থল ৫ নং ফেরিঘাটের পন্টুনে তদন্তকারী দলের মুখোমুখি হন ডুবে যাওয়া ফেরি আমানত শাহের মাস্টার শরিফুল ইসলাম লিটন। তদন্ত টিমের প্রধান কি কারণে ফেরিটি ডুবলো তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। কিন্তু অনেক প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব মেলেনি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর পরিচালক (বাণিজ্য) আশিকুজ্জামান জানিয়েছেন, ফেরি উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারাও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ট্রাক চালকদের সঙ্গে কথা বলেছে।
এদিকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ১৪১ মিটার নদীপথে উজান টপকে চাঁদপুর থেকে বুধবার রওয়ানা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদও সেটি পাটুরিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছায়নি। শুক্রবার এটি পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহান বলেন, চাঁদপুর থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় পাটুরিয়া ফেরিঘাটের পথে রয়েছে।
দুর্ঘটনাকবলিত রো-রো ফেরি আমানত শাহের যে ওজন তাতে দুটি জাহাজ সমেত চেষ্টা করেও সফল হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
প্রত্যয় পাটুরিয়ায় আসার পরপরই ফেরিটি উদ্ধারের প্রচেষ্টা শুরু করা যাবে। হামজার কাজ শুধু ফেরির ভেতরে আটকে থাকা ট্রাকগুলো উদ্ধার করা বলে জানান তিনি।









