শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা, ক্যাম্প ভাঙচুর, পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ এনেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী।
শনিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে সুবচনী এলাকায় বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব অভিযোগ করেন বিদ্রোহী প্রার্থী হাবিবুর রহমান ঢালী।
এর আগে, শুক্রবার (৫ নভেম্বর) রাতে এ ইউপি নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী নৌকার সিরাজুল ইসলাম ঢালী ও বিদ্রোহী (আনারস) হাবিবুর রহমান ঢালীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী চোখে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, নৌকার প্রার্থী রাতে প্রচারণা শেষে সুবচনী বাজারে তার নির্বাচনি অফিসে যান। এর পরপরই বিদ্রোহী প্রার্থী আনারস প্রতীকের হাবিবুর রহমান ঢালীর লোকজন নৌকার নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করে। পরবর্তী সময়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে পুলিশ ১০৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ঢালী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
তবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিদ্রোহী প্রার্থী জানান, দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে আওয়ামী লীগ করছেন। সদর উপজেলার রুদ্রকার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। ইউনিয়নে দুই বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আনারস প্রতীক) হিসেবে নির্বাচন করছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচনি ক্লাব, বসত বাড়িতে এবং প্রচারে নেমে তিনি ও কর্মীরা নানা ধরনের হামলার শিকার হচ্ছেন। নারী কর্মীদের লাঞ্ছনা করা হচ্ছে। নারী কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে তাদের ভোট চাইতে দেওয়া হয় না। তাদের কাছ থেকে সব কিছু রেখে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। ১ নভেম্বর থেকে তার নির্বাচনি পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাকে এলাকায় ধাওয়াও করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন কার্যক্রম করে আসছি। কোথাও কোনও ধরনের অপ্রীতিকর অপ্রীতিকার ঘটনা ঘটাইনি। তারা আমার ক্লাব ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের মারধর করেছে। আমার এক কর্মীর দোকান ভেঙে লুটপাট করেছে। তারা তাদের অফিস ভাঙচুর করে আমাদের ওপর দায় চাপিয়েছে।’
এ ঘটনায় তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পালং মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান। এ ছাড়া ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান হাবিবুর রহমান ঢালী।
তবে নৌকার প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম ঢালীর ছোট ভাই রুহুল আমিন ঢালী এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘আমরা প্রচারণা শেষ করে নির্বাচনি অফিসে এসে বসি। সেখানে আমরা নির্বাচন নিয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ বিদ্রোহী প্রার্থী হাবিবুর রহমান ঢালীসহ কয়েকশ লোক আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাদের নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করে। আমার ভাইর চোখে গুলি লেগেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়েছে। আমরা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তারা আমাদের ওপর হামলা করে আজ উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই সংবাদ সম্মেলন করেছে।’
পালং থানার পুলিশ পরিদর্শক আকতার হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাতের সংঘর্ষে ১০৬ রাউন্ড ফাকা গুলি বর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় একাধিক মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার পরপরই আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবো।’
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। যে প্রার্থীই আচরণবিধি লঙ্ঘন করবেন, তার বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









