শরীয়তপুর সদরের শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শৌলপাড়া ইউপির পরাজিত প্রার্থী আজগর মুন্সি ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে মামলার আবেদন করেছেন সোহরাব হোসেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর সদরের ৯টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শৌলপাড়া ইউপির রিটার্নিং কর্মকর্তা ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন। ওই ইউপিতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে চার জন সদস্য প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। সেখানে হামেদ রাজ মোরগ প্রতীকে ৪৭৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজগর মুন্সি ফুটবল প্রতীকে ৪৭৭ ভোট পান।
ওই ওয়ার্ডের ১০ নম্বর সারেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কামরুল হাসান ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যায় কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করেন। কিন্তু পরাজিত প্রার্থী আজগর মুন্সি উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্রে এসে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানান। রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে নির্বাচনি বিধি মেনে আবেদন করার পরামর্শ দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজগর মুন্সি ও তার সমর্থকরা রিটার্নিং কর্মকর্তা সোহরাব হোসেনের ওপর হামলা করেন। তাকে উপজেলা ভবনের সিঁড়িতে ফেলে মারধর করেন। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
শুক্রবার সকালে আজগর মুন্সিসহ ১৫ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে পালং মডেল থানায় মামলার আবেদন করেন নির্বাচন কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন।
সোহরাব হোসেন বলেন, কেন্দ্রে কি ঘটেছে তা আমি জানি না। ভোট গণনা হয়েছে কেন্দ্রে। কমিশনের নির্দেশ ছাড়া পুনরায় ভোট গণনা আমার এখতিয়ারের বাইরে। বিষয়টি পরাজিত প্রার্থীকে বুঝাতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি বিষয়টি না মেনে কর্মী-সমর্থক নিয়ে আমাকে মারধর করেছেন। এজন্য মামলার আবেদন করেছি।
জানতে চাইলে আজগর মুন্সি বলেন, আমি ১০০ ভোট বেশি পেয়েছি। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তারা কারসাজি করেছেন। আমি তাদের অনুরোধ করেছিলাম, পুনরায় ভোট গণনার জন্য। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। আমি ও আমার সমর্থকরা নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর করেনি।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনাটি দুঃখজনক। তিনি মামলার আবেদন করেছেন। মামলাটি নথিভুক্ত করা হবে। অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহিদ হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের সামনে রিটার্নিং কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। ১৫-২০ জন মানুষ মিলে তাকে মারধর করেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।









