আগামী ৫ জানুয়ারি পঞ্চম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে যশাই ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বাবা ও ছেলে। বাবা-ছেলের নির্বাচনি এ লড়াইয়ের আলোচনা এখন স্থানীয়দের সবার মুখে মুখে।
আব্দুল হাকিম খান যশাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি এবার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না পেয়ে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তার ছেলে আবু হোসেন পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।
ওই ইউনিয়নে বাবা-ছেলে ছাড়াও আরও চার প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে আনারস প্রতীকে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, গোলাপফুল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন জাকের পার্টির প্রার্থী আল মামুন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন তোফাজ্জেল হোসেন ও শাজাহান মিয়া।
প্রার্থী আব্দুল হাকিম খান বলেন, আমি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলাম। দল থেকে আমাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় আমি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করছি। এ এলাকায় আমার ভালো জনপ্রিয়তা থাকায় সাধারণ ভোটাররা আমাকে চাচ্ছেন এবং জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন বলে আশা রাখি। কিন্তু এলাকায় প্রচারণাকালে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি হয়রানি করা হচ্ছে।
এদিকে নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান মন্ডল। তিনি বলেন, গভীর রাতে নৌকার সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন। এটি কোনও সুষ্ঠু নির্বাচনের অংশ হতে পারে না। বিষয়টি জেলা নির্বাচনি কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকার প্রার্থী আবু হাসান বলেন, আমার বাবা যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মিথ্যা বানোয়াট। এবারের নির্বাচন থেকে তার সরে দাঁড়নোর কথা ছিল। কিন্তু মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। এরপর থেকে তার সঙ্গে আমার কোনও কথা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান মন্ডল এলাকায় নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার নানা অপচেষ্টা করছে। তার কর্মী সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।
যশাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক কর্মী সমর্থকরা বলেন, এ নির্বাচনে বাপ-বেটা দুই জনই আওয়ামী লীগের ছিলেন। বাবা দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আর ছেলে দল থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করছেন। দুই জন একই পদে প্রার্থী হওয়ায় আমরা স্থানীয় নেতাকর্মীরা হতাশ।
পাংশা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল আলীম বলেন, যশাই ইউনিয়ন নির্বাচনে কোনও প্রার্থীর কাছ থেকে এখনও লিখিত অভিযোগ পাইনি।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাংশা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৩৯ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১০৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া নির্বাচনে মোট এক লাখ ২৮ হাজার ৯৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৫৬ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৪১ জন।









