মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদাকে পুঁজি করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিলেন রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পানচাষিরা। তবে করোনাকালে বিদেশে রফতানি বন্ধ হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাজারে পানির দরে পান বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। এতে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। চাষিদের অভিযোগ, ৮০টি পান আগে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হতো। সেই পান এখন মাত্র ৪-৫ টাকা দাম। তবে বাজারে একেকটি পান কিনে খেতে গেলে ঠিকই পাঁচ টাকা করচ করতে হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার ৮৮ হেক্টর জমিতে মিষ্টি পান ও সাচি পানের আবাদ করা হয়। ৬৫৮টি মিষ্টি পানের বরজ, ১৫৬টি সাচি পান বরজসহ ৮১৪টি বরজে পানের চাষ হয়।
মিষ্টি পান চাষে উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত বালিয়াকান্দি উপজেলা। এ অঞ্চলের পানের সুখ্যাতি বহু পুরনো। এখানকার মিষ্টি পান চাহিদা মিটিয়ে ৮টি দেশে রফতানি করা হতো। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে প্রতি বছর কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। তবে অনেক সময় পান চাষিদের বেকায়দায় পড়তে হয়। কারণ রোগের বিষয়ে কৃষি বিভাগে নেই কোনও পরামর্শের সুযোগ ও সুবিধা।
পানচাষি রঞ্জন সাহা বলেন, করোনার প্রভাবে পানে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বছর লাভের আশা করেছিলাম। তবে এখন পানের ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। কৃষি কর্মকর্তারাও কোনও পরামর্শ দিতে পারছেন না। আগে বিদেশে প্রচুর চাহিদা থাকলেও এখন আর পান বিদেশে পাঠাতে পারছি না। দাম না থাকার কারণে বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে।
পানচাষি গনেশ মিত্র বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার আড়কান্দি, বেতেঙ্গা, চরআড়কান্দি, ইলিশকোল, স্বর্প বেতেঙ্গা, খালকুলা, বালিয়াকান্দি, বহরপুর, যদুপুর এলাকায় ব্যাপক পানের আবাদ হয়। তাদের পূর্ব পুরুষের আমল থেকে পানের চাষ করে আসছি। ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমরাও পান চাষ করছি। তবে এখন পানের দাম একেবারেই কম হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ৮০ টি পান আগে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হতো। সেই পান এখন মাত্র ৪-৫ টাকা দাম। তবে বাজারে একেকটি পান কিনে খেতে গেলে ঠিকই ৫ টাকা দিয়েই কিনে খেতে হয়।
বাবাকে পানের বরজে সাহায্য করতে আসা কলেজছাত্র পালাশ সাহা বলেন, এ অঞ্চলের সাচি ও মিষ্টি পানের প্রচুর উৎপাদন হয়। মিষ্টি পান রাজবাড়ী জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার চাহিদা মিটিয়ে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, নেপাল, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া রফতানি হতো। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আসতো। করোনার কারণে বিদেশে পান রফতানি বন্ধ হয়ে পড়ে। বাজারে পানের দাম নেই। এ কারণে পান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন চাষিরা।
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, এখানকার মিষ্টি পান এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ৮টি দেশে রফতানি হতো। এখন রফতানি বন্ধ রয়েছে। তবে পান রফতানি করতে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পান চাষিদেরকে সব সময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।









