বয়লার বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৭, মালিকের বিরুদ্ধে মামলা

গাজীপুর প্রতিনিধি
২৬ জানুয়ারি ২০১৬, ১৭:৩৩আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৬, ১৭:৪৯

গাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণস্থল গাজীপুরে গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার গলিয়ে কেমিক্যাল তৈরির কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতের নাম কামাল হোসেন (৪৯)। নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকার মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে কামাল ওই কারখানার সুপারভাইজার ছিলেন। এ নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলের অতুলের টেক এলাকার ‘স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল লিমিটেড’ কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের শনিবারের ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৭ জনে দাঁড়ালো। এদিকে ওই কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় কারখানার মালিকসহ তিনজনের নামে এবং আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে সোমবার জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ কাউকে আটক বা গ্রেফতার করতে পারেনি।
ঢাকা মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতাল ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হোসেন জানান, গাজীপুরের ‘স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল লিমিটেড’ কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ কামাল হোসেন (৪৯) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ওই কারখানার সুপারভাইজার ছিলেন। এছাড়া ওই ঘটনায় দগ্ধ স্থানীয় ভাদুন এলাকার সিরাজ ফরাজীর ছেলে রিক্শাচালক স্বাধীন (৩০) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

এদিকে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, ওই কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় জয়দেবপুর থানার পূবাইল পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই গোলাম সারোয়ার বাদী হয়ে কারখানার মালিকসহ তিনজনের নামে এবং আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে সোমবার জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন- কারখানা মালিক গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বসুগাঁও পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত ইছহাক হাওলাদারের ছেলে মো. ইমান উদ্দিন (৪৭), কারখানার ম্যানেজার মো. শাহীন (৩৫) ও জমির মালিক গাজীপুর সদর উপজেলার বড় কয়ের এলাকার দুদু বেপারির ছেলে বাছেদ বেপারী (৬৫)। তবে ওই ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, কারখানার মালিকসহ ওই তিনজন এবং অজ্ঞাত কিছু আসামি পরস্পর যোগসাজসে সরকারি অনুমোদন ব্যতীত এবং সরকারি কোনও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যতীত ও আসামিদের অভিজ্ঞতা ছাড়া যেকোনও সময় বিস্ফোরণ ঘটবে এবং প্রাণহানি ঘটবে জেনেও পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের পুরাতন টায়ার গলিয়ে তেল জাতীয় পদার্থ উৎপাদন করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে উৎসাহ দিয়ে নিজ উদ্যোগে কাজ করাচ্ছিল।

প্রসঙ্গত, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পূবাইলের অতুলের টেক এলাকার গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার গলিয়ে কেমিক্যাল তৈরির ওই কারখানায় গত শনিবার বয়লার বিস্ফোরণের ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। এতে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত শনিবার বিকেলে বয়লারের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৫ জন আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে নিহত হয়। এদের মধ্যে কারখানার পার্শ্ববর্তী (প্রায় আড়াইশ’ ফুট দূরে) সড়ক দিয়ে অটোরিক্শায় চড়ে বাসায় ফেরার পথে পথচারী এক স্কুল শিক্ষিকা নিহত হন। নিহতরা হলেন খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (২১), মাদারিপুর সদরের খামারবাড়ী এলাকার সোবহান তালুকদারের ছেলে আলহাজ (২৩), নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার চানগাঁও গ্রামের দিলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ও স্থানীয় বারইবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সিদ্দিকা জেবুন্নেসা (৩০), কাখানার নিরাপত্তাকর্মী স্থানীয় বসুগাঁও এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে সেলিম মোল্লা (৪৫), মাদারীপুরের ডাসার থানার ভাগুরিয়া এলাকার আ. রাজ্জাক বিশ্বাসের ছেলে কাওসার বিশ্বাস(৩৪)। ওই ঘটনায় তিনজন দগ্ধ হয়। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে কারখানার সুপারভাইজার আব্দুল কাদের (৫৫) এবং মঙ্গলবার সকালে নরসিংদীর ঘোড়াশাল এলাকার মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে ওই কারখানার সুপারভাইজার কামাল হোসেন (৪৯) মারা যান। ওই ঘটনায় দগ্ধ স্থানীয় ভাদুন এলাকার সিরাজ ফরাজীর ছেলে রিক্শাচালক স্বাধীন (৩০) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার বিকেল চারটার দিকে বিকট শব্দে বয়লার বিষ্ফোরণে ওই কারখানায় রাখা ড্রামে ভর্তি বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল, পরিত্যক্ত টায়ার এবং কেমিক্যাল ভর্তি দুটি ট্যাংক লরি ও পার্শ্ববর্তী সড়কের পাশের গাছপালাগুলোসহ বিভিন্ন মালামাল আগুনে পুড়ে যায়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের এ ঘটনায় কারখানা ভবনের স্টিলের স্ট্রাকচার ও বয়লারগুলোসহ টুকরো টুকরো হয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪/৫শ’ ফুট দূরে ছিটকে পড়ে পুরো কারখানা এলাকা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়। এসময় আশেপাশের একাধিক ভবনের ক্ষতি হয়। ঘটনার তদন্তে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

/এএইচ /

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম