ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের তিন দিনের ওরস মঙ্গলবার (১ মার্চ) ভোরে শেষ হয়েছে। এরপর শত শত গাড়ি করে ফিরতে শুরু করেছেন ভক্তরা। এ কারণে ওরসের গাড়ি পারাপার হওয়ায় বুধবারও (২ মার্চ) ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ৮ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এতে দীর্ঘ সময় নদী পারের অপেক্ষায় থেকে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে পেতে হচ্ছে ফেরির নাগাল।
সরেজমিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় চার কিলোমিটার সড়কে গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন এবং ঘাট থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী- কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড়ের প্রায় চার কিলোমিটার সড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি ও ঘাট সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্র জানায়, আটরশির বার্ষিক ওরস শেষে অসংখ্য ভক্ত শত শত বাস ও ব্যক্তিগত গাড়িযোগে বাড়ি ফিরতে শুরু করায় যানবাহনে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। যদিও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী যানবাহন ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাককে পারাপার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বেনাপোল থেকে আসা ট্রাকচালক নুরু শেখ জানান, বেনাপোল থেকে মঙ্গলবার সকালে ছেড়ে বিকাল ৪টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে আটকে আছি। কখন ফেরির দেখা পাবো বলতে পারছি না। সিরিয়ালে থেকে যেমন বাড়ছে খরচ, তেমনি সময়মতো মালামাল পরিবহন করতে না পেরে মালিক ও পার্টির অনেক কথা শুনতে হচ্ছে।
সেবা গ্রিন লাইনের বাসচালক শাহ্ ফরিদ বলেন, রাত ২টার দিকে দৌলতদিয়া প্রান্তে এসে আটকা পড়েছি। এখনও ফেরিঘাট প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। দীর্ঘ সময় নদী পারের অপেক্ষায় থেকে যাত্রীরা হাঁপিয়ে উঠেছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শিহাব উদ্দিন বলেন, আটরশির ওরস শরীফের যানবাহন একযোগে আসায় দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। তবে বিকাল পর্যন্ত এ চাপ কমে যাবে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে নৌপথে ছোট-বড় মিলিয়ে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে।









