বন্ধুদের সঙ্গে ভারতে ঘুরতে গিয়ে লাশ হলেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার নাঈমুর রহমান প্রান্ত (২৪)। ১৪ মার্চ (সোমবার) রাতে ভারতের গোয়ার সড়কে হওয়া ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন একই এলাকা থেকে যাওয়া তার তিন বন্ধু।
আহতরা হলেন, তাইহান তাবাচ্ছির সোয়াদ (২৫), আলী আকরাম আকিব (২৬) ও তার ছোট ভাই আলী আরমান আদিব (২২)। এরমধ্যে আদিবের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বুধবার (১৬ মার্চ) নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ছেলের মৃত্যুর সংবাদ শুনেই সিঙ্গাপুর থেকে উড়ে এসেছেন বাবা কামাল হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। শোক ছড়িয়ে পড়েছে পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনদের মাঝেও। ভিনদেশে প্রাণহানি হওয়ায় সন্তানের নিথর দেহটিও দেখছেন না বাবা-মা। এই অদেখা শোকের মাত্রা বাড়িয়েছে কয়েকগুণ।
মা নাসিমা কামাল বিলাপ করতে করতে বলছেন, ‘আমাকে আমার ছেলের কাছে নিয়ে যাও। আমি তার কাছে যাবো। কোথায় আমার ছেলে? সে আমার কষ্ট সহ্য করতে পারে না। তার কাছে নিয়ে যাও।’
নিহত প্রান্তর বোন জামাতা মো. নাজমুল উদ্দিন সারভি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা তাকে এক পলক দেখতে পারছি না। ওই দেশে যাওয়ার কোনও ব্যবস্থাও হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ, যতদ্রুত সম্ভব আমাদের ওই দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবা-মা প্রায় পাগল অবস্থা। কাঁদতে কাঁদতে শুধু ছেলেকে দেখতে চাইছেন, আর তার কাছে যেতে চাইছেন।’
একই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন তাইহান তাবাচ্ছির সোয়াদ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেলেও তিনি হাঁটাচলা করতে পারছেন। বুধবার বিকালে গোয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করিডোর থেকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘আমরা গোয়ায় আসছিলাম। এখানে একটা গুরুতর অ্যাক্সিডেন্ট (সড়ক দুর্ঘটনা) হয়ে গেছে। একজন মারা গেছে, একজন এখনও সেন্সলেস (অজ্ঞান)। তাকে নিয়ে আমরা এখন আসছি মর্গে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর বাংলাদেশে আসতে পারবো কিনা সেটা আমাদের জানাবে। এখানে পুলিশ সাহায্য করতেছে। পুলিশ হেল্প না করলে অবস্থা খারাপ হয়ে যেত।’
নিহত প্রান্তর লাশ দেশে পাঠানোর বিষয়ে বলেন, ‘মর্গে থেকে যদি প্রান্তকে রিলিজ দেয় তাহলে এখান থেকে নিয়ে আজকের মধ্যে ডিরেক্ট ফ্লাইটে আসার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আজকে ডিরেক্ট ফ্লাইট সম্ভব কিনা সেটাও বুঝতেছি না। এদিকে কেউ নাই, তাই সমস্যা হচ্ছে। কেউ থাকলে এত সমস্যা হতো না। আমার অবস্থা খুব একটা ভালো না। আমার সারা শরীর ইনজুরড।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার পুলিশ সবকিছু নিশ্চিত না হয়ে আমাদের বাংলাদেশে যাওয়ার পারমিশন দিতে পারবে না। আমি চাচ্ছি, আদিব-আকিবকে কলকাতায় ট্রিটমেন্টের জন্য রেখে প্রান্তর লাশ নিয়ে বাংলাদেশে আসতে। কারণ, কলকাতায় অনেক পরিচিত আছে। আমি নিজে কেমনে ঠিক আছি নিজেও জানি না। সড়ক দুর্ঘটনার সময় আমি গাড়ি থেকে ছিটকে বের হয়ে গেছি। তাও আমার অনেক সেলাই লেগেছে। আমার মনে হয়, আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখছে ওদের দেখাশোনা করার জন্য। নয়তো যে দুর্ঘটনা হয়েছে আমার মনে হয় না কারও সেখানে বাঁচার কথা।’
নিহত নাঈমুর রহমান প্রান্তর বাড়ি ফতুল্লার লালপুরে। তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিবিএ’র শেষ বর্ষের ছাত্র। আহত তিন জনের মধ্যে তাইহান তাবাচ্ছির সোয়াদ ফতুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান স্বপনের, আলী আকরাম আকিব ও আলী আরমান আদিব ফতুল্লা থানা গেট সংলগ্ন আমীর আলী সুপার মার্কেটের মালিক মৃত জহিরুল আলমের ছেলে।









