ফরিদপুরের নগরকান্দায় একটি ইজিবাইক থেকে ৩০ বস্তা (৭৫০ কেজি) চাল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ইজিবাইকচালক সোহাগ শেখকে (৩০) আটক করে পুলিশ। স্থানীয়দের দাবি বস্তা পরিবর্তন করে সরকারি চাল পাচার করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার (২২ মার্চ) নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের গোয়াইলপোতা এলাকা থেকে এই চাল জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া এলাকা থেকে ওএমএসের ডিলার ইব্রাহিম জলিলের দোকান থেকে সরকারি চাল কৃষ্ণপুর বাজারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এলাকাবাসী চালসহ ইজিবাইকটি আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেতী প্রুকে খবর দেন।
এ বিষয়ে ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. বুলবুল সরদার বলেন, অভিযুক্ত ডিলার মো. ইব্রাহিম জলিল বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালামের ঘনিষ্ঠজন। কাজী আবুল কালামের সঙ্গে যোগসাজশে ইব্রাহিম বস্তা পরিবর্তন করে সরকারি চাল পাচার করছিলেন।
চাল বহনকারী ইজিবাইক চালক মো. সোহাগ শেখ বলেন, চালের ডিলার ইব্রাহিমের ছোটভাই বাবলু তার বাড়ি থেকে ওই চালগুলো ইজিবাইকে উঠিয়ে কৃষ্ণপুর বাজারে পৌঁছে দিতে বলেন। এগুলো সরকারি চাল কিনা তা আমি জানি না।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডিলার ইব্রাহিম জলিলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে কল দিয়েও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ তিনি ঘটনার পর থেকে মোবাইল বন্ধ করে পলাতক রয়েছেন।
এ বিষয়ে নগরকান্দা থানা এসআই তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইজিবাইক চালক সোহাগকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে চাল পাচারের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন ডাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সঠিক নয়। এটি ষড়যন্ত্র। আমি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। তদন্তে আমি দোষী হলে যে কোনও শাস্তি মাথা পেতে নিতে রাজি আছি।
নগরকান্দা উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আলী আজহার বলেন, যে বস্তাগুলো ভরে চালগুলো বহন করা হচ্ছে, সে বস্তা সরকারি নয়। বস্তার গায়ে কোনও সরকারি সিল নেই। তবে ওই বস্তার চালগুলো সরকারি মোটা চালের মতোই মনে হচ্ছে।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেতী প্রু বলেন, এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো জব্দ করা হয়। চালগুলো উপজেলা খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসিএলএসডির) জিম্মায় রাখা হয়েছে। তদন্তের পর এগুলো সরকারি চাল হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হবে।









