শরীয়তপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষককে শিক্ষককে লাথি ও কিল-ঘুষি মারার ঘটনার তিন দিন পর মামলা নিয়েছে পুলিশ। এতে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ ব্যাপারী ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল জমাদ্দারকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (২ এপ্রিল) সকালে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় মামলা করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ ও মামলার বাদী হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ঘটনার দিনই আমরা অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। কিন্তু মামলা প্রসেস হতে নাকি সময় লেগেছিল। প্রথম থেকেই মামলার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।’
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন জানান, শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও রাসেলসহ অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: দাওয়াত না দেওয়ায় শিক্ষককে লাথি, কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত
মামলা হতে সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সময় নিয়েছেন। তাই মামলা হতে দেরি হয়েছে। আমরা সব সময় মামলা নিতে প্রস্তুত ছিলাম।’
হারুন অর রশিদ বলেন, গত ৩০ মার্চ কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষা নিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে অতিথি শিক্ষকরা আসেন। প্রভাষক বি এম সোহেলসহ কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকও উপস্থিত ছিলেন। তখন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ বেপারী ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল জমাদ্দার ২০-২৫ জনকে নিয়ে কলেজের ৩০২ নম্বর কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এরপর পরীক্ষার অনুষ্ঠানের প্রীতিভোজে তাদের দাওয়াত দেওয়া হলো না কেন জানতে চায়। এ নিয়ে পরীক্ষায় বাঁধা সৃষ্টি করে তারা। বি এম সোহেল প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাথি ও কিল-ঘুষি মারে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সকালে শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মো. মহসিন মাদবর ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ উজ্জামান রাশেদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর বলেন, ‘সোহাগ বেপারী যে এই কলেজের নিয়মিত ছাত্র নন, তা আমাদের জানা ছিল না। আর কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। তার বিরুদ্ধে শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কলেজ শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছি।’
এদিকে শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে জড়িতদের বিচার দাবিতে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও সংহতি সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের শিক্ষককে লাথি ও কিল-ঘুষি মেরে লাঞ্ছিত করেছেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতারা। যা অন্যায় ও অবিচার। সোহাগ বেপারীসহ জরিতদের আইনের আওতায় এনে তাদের বিচার করতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।









