মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা দখল করে বালু ভরাট করছে প্রভাবশালী ভূমি সিন্ডিকেট। উপজেলার কুশারীপাড়া এলাকার মিল্কভিটা অফিস সংলগ্ন ঢাকা-দোহার সড়কের পাশে ড্রাম ট্রাকে করে বালু এনে জায়গাটি ভরাট করলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বেজগাঁও এলাকার প্রভাবশালী ভূমি সিন্ডিকেট চক্রের মূলহোতা দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে জায়গাটিতে বালু ভরাট করা হচ্ছে। তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের নামে আরএস ২ নম্বর খতিয়ানের ৭০ ও ৯১ নম্বর দাগের ২ একর ২২ শতাংশ জায়গা রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। অথচ প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রটি ওই জায়গা ভরাট করে দখলে নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দেলোয়ার হোসেন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি জায়গার পাশাপাশি ঝামেলাযুক্ত জায়গা নিজের ও আত্মীয়দের নামে কিনে বালু ভরাট করে দখল করেছেন। সর্বশেষ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের জায়গাটি দখল করে বালু ভরাট করছেন।
এ বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘জায়গাটি আমার ভাগিনা মো. সজিবের নামে মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে লিজ নেওয়া হয়েছে। তাই আমরা বালু ভরাট করছি। এখানে তো অপরাধের কিছু দেখছি না।’
মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘গেজেট অনুযায়ী শ্রীনগর থেকে ভাগ্যকুল পর্যন্ত রাস্তার পাশের জায়গাটি জেলা পরিষদের। তাই জেলা পরিষদ থেকে জায়গাটি লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে বালু ভরাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি তাদের।’
এটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের জায়গা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত, আপনারা কীভাবে লিজ দিলেন জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘রেকর্ডে ভুল আছে।’
এ বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের মুন্সীগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খায়রুজ্জামান বলেন, ‘ওই জায়গা আমাদের দফতরের। বালু দিয়ে জায়গা ভরাটের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আজই জানতে পেরেছি। আমাদের জায়গা জেলা পরিষদ কীভাবে লিজ দেয়। গণপূর্ত অধিদফতরের জায়গা কেউ লিজ দিতে পারে না। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’









