ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নেমেছে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে। শুক্রবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাটে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন বাসের ব্যাপক চাপ ছিল। তবে পর্যাপ্ত ফেরি ও লঞ্চ থাকায় এবার অনেকটা ভোগান্তি ছাড়াই পদ্মা নদী পারাপার হতে পারছেন যাত্রীরা।
পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, সকালে ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকাল যাত্রীবাহী বাসে ঈদে ঘরমুখো মানুষ পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি ও লঞ্চে পার হওয়ার জন্য ভিড় করেন। এসব যাত্রীদের বাসগুলো থেকে পাটুরিয়ার পুরনো টার্মিনাল এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে লঞ্চঘাট ও তিন নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আসেন যাত্রীরা। এরপর তারা হুড়োহুড়ি করে ফেরি ও লঞ্চে উঠে পড়েন।
সকাল পৌনে ১১টার দিকে দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে কয়েকটি যানবাহন ও অল্প সংখ্যক যাত্রী নিয়ে রো রো ফেরি ভাষা শহীদ বরকত পাটুরিয়ার তিন নম্বর ঘাটের পন্টুনে ভিড়ে। ফেরি থেকে যানবাহন ও যাত্রী নামার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে ফেরিতে উঠে পড়েন। পরে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তিন থেকে চারটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সুযোগ পায়।
ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বিগত ঈদগুলোতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে পারাপার হওয়া যাত্রী ও যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় ছিল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাট এলাকায় আটকে থেকে চরম ভোগান্তির শিকার হতেন ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা। তবে এবার ঈদে ঘাটের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা কমেছে।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাটুরিয়ায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর সংখ্যা কম ছিল। তবে শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে ফেরি ও লঞ্চের যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। এসব যাত্রীদের অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক। তারা সাভার, আশুলিয়া, নবীনগর ও গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
শুক্রবার সকালের দিকে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ ঘাট এলাকা পরিদর্শনে আসেন। তিনি বলেন, ঘাট এলাকায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ থাকলেও ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে নদী পার হচ্ছেন। লঞ্চে ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী পারাপারে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী বা অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঈদের একদিন বাকি থাকলেও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় নদী পারাপারের যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা কম। এ কারণে ঘাটে আসার এক ঘণ্টার মধ্যেই ফেরিতে উঠে যাচ্ছে বাসগুলো।
ঘাট এলাকায় অর্ধশত সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। কারণ, যাত্রী ও বাস পারাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ব্যক্তিগত ছোট গাড়িরও তেমন চাপ ছিল না। আসার পরপরই পাঁচ নম্বর ঘাট হয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি নদী পার হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শাহ মো. খালেদ নেওয়াজ বলেন, সকাল থেকে ঘাট এলাকায় যাত্রীর চাপ বেশি। তবে পর্যাপ্ত ফেরি থাকায় কোনও ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা নৌপথ পারাপার হচ্ছেন। বর্তমানে ২৯টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।









