কালভার্ট ভাঙা, ৫০০ বিঘা জমিতে বোরো চাষে অনিশ্চয়তা

নরসিংদী প্রতিনিধি
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১১:৩৩আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ১২:১০

নরসিংদী, বোরো চাষ

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ বিঘার বেশি জমির বোরো চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন চরসিন্দুর ইউনিয়নের চার গ্রামের পাঁচ শতাধিক কৃষক। উপজেলার পাঁচদোনা-চরসিন্দুর সড়কের মালিতা জামতলা থেকে বালিয়া মোড় পর্যন্ত ছোট বড় ১০টি কালভার্ট ভেঙে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

মালিতা এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মালিতা এলাকার মফিজ চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কের কালভার্টটি বন্ধ হয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মালিতা ও সুলতানপুর গ্রামের ২০০ বিঘার বেশি জমি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় তাতে চাষাবাদ সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ায় সড়কের অপর পাশে বালিয়া মালিতা ও খানেপুর গ্রামের প্রায় ৩০০ বিঘার বেশি জমিতে পানির অভাবে চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।

কাউয়াদি গ্রামের কৃষক আ. রশিদ মিয়া বলেন, ‘এখানে আমার ৪ বিঘা জমি রয়েছে। যে জমিতে আমি সব সময় ধান চাষ করে থাকি। কিন্তু এবার এই জমিগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রতি বছর বোরো আমন মৌসুমে শীতলক্ষ্যা থেকে বিএডিসির প্রকল্পের মেশিন ব্যবহার করে পানি উত্তোলন করা হয়। ফলে পানি বন্ধ করাও সম্ভব হয় না।’

মালিতা গ্রামের কৃষক কবির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ‘আমার ৬ বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। আরেক পাশে থাকা ১০ বিঘা জমি, যে জমিতে আমি সবসময় ধানচাষ করে থাকি। কিন্তু কালভার্ট অকেজো হওয়ায় এবার একদিকে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ করতে পারছি না। অপরদিকে পানি না থাকায় চাষাবাদে ব্যাঘাত ঘটছে। তাই এখনও অনিশ্চয়তায় আছি এ জমিগুলোতে এবার ধান চাষ করতে পারব কী না?’

একই কারণে এই এলাকার সুলতান মিয়ার ১০ বিঘা, আওলাদ হোসেনের ৪ বিঘা, জসিম উদ্দিনের ৩ বিঘা, আবুল হোসেনের ৭ বিঘা জমিতে এবার ধান চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারী হাসনাইন পাঠান বলেন, ‘এই সড়কটি তৈরি করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫ টন ক্ষমতা সম্পন্ন যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে। কিন্তু বাস্তবে এই সড়কের ওপর দিয়ে প্রতিটি ট্রাক নিম্নে ১০ টন থেকে ২৮ টন পর্যন্ত মাল বোঝাই করে যাতায়াত করছে। ফলে এই সড়কের প্রায় ৫/৬টি কালভার্ট ভেঙে গেছে এবং বেশকিছু জায়গায় সড়কও দেবে গেছে।

এই সড়ক দিয়ে দেশবন্ধু সুগার মিলের চিনি বোঝাই ৫০/৬০টি ট্রাক প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকে। এছাড়া গাজী সিমেন্ট কারখানাসহ প্রায় শতাধিক মাল বোঝাই ট্রাক এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে থাকে। ফলে সড়কটি কিছুদিন পর পর কোনও কোনও অংশে দেবে যায়। আর সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেরামত করতে হয়। এরফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার। বিপাকে পড়ছেন এলাকার কৃষকরাও।

 

/এসটি/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম