তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করেছে, বিদেশে চাকরি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রসেডিং পড়ে দেখবেন, সেখানে সাক্ষী-আসামিরা তাদের জবানবন্দিতে কীভাবে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার কথা বলেছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
বুধবার (৩১ আগস্ট ) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের আলী আহম্মদ চুনকা সিটি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের মাঝে কল্যাণ ট্রাস্টের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সাথে বিরোধী দলীয় কর্ণধারদের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সাথে জিয়াউর রহমান যুক্ত ছিল আর একুশে আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সাথে বেগম খালেদা জিয়া-তারেক রহমান যুক্ত। তৎকালীন মেজর জেনারেল রুমি ডিজিএফআই এর চিফ ছিল, একুশে আগস্ট হত্যকাণ্ডের ঘটনার তিনি সাক্ষী। তখনকার সময়ের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি এই ঘটনা তদন্তের জন্য অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া তখন বারণ করে বলেছিল, তদন্ত করতে হবে না, আমি ঘটনা জেনে গেছি, তদন্ত হয়ে গেছে। তৎকালীন সময়ে মেজর ছামস আলামত হিসেবে কিছু গ্রেনেডের অংশ রেখে দিয়েছিল, একারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
জিয়াউর রহমান শত শত সেনাবাহিনীকে বিনা বিচারে হত্যা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ক্ষমতাকে নিষ্কণ্ঠ করার জন্য সেনাবাহিনীর শত শত হাজার হাজার জোয়ানকে হত্যা করেছে। তিনি বিনা বিচারে সেনাবাহিনীর শত শত অফিসার জোয়ানকে ফাঁসি দিয়েছে। এতো ফাঁসি দিতে হয়েছে যে অনেক সময় এক রশিতে দুজনকেও দিতে হয়েছে।’
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ সমৃদ্ধশালী হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালে যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল তখন বাংলাদেশের অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। যে অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধির হার আমরা এখন পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারিনি। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ৮ শতাংশের অধিক অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। অর্থাৎ একটি যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন শুরু করেছিলেন তখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে তখন হত্যা না করা হলে ৯ কিংবা সাড়ে ৯ শতাংশের ওপরে অর্থনীতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকতো। এবং সেটি যদি অব্যাহত থাকতো, ৭৫ সালের ১০ বছরের মাথায় বাংলাদেশ হতো একটি সমৃদ্ধিশালী দেশ। তখন যদি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা না হতো, তাহলে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের আগে বাংলাদেশ হতো সমৃদ্ধশালী দেশ।
খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আজকে জন্মের তারিখ বদলে ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়া কেক কেটে জন্মদিন পালন করে, এখন অবশ্য মানুষের সমালোচনার মুখে কেক কাটা বন্ধ করে মিলাদ পড়ায়। ওনার জন্মের তারিখ বিয়ের রেজিস্টারে নাই, পাসপোর্টে নাই, মেট্রিকের সার্টিফিকেটে নাই মেট্রিক তো পাশ করে নাই ফরম ফিলাপ যে করেছে সেখানে নাই, করোনা টেস্টের রিপোর্টেও নাই। ৯৭ কিংবা ৯৮ সালে ওনি (খালেদা জিয়া) হঠাৎ জন্মগ্রহণ করলেন, অথচ এতোদিন জন্ম তারিখ ভিন্ন ছিল। এই যে ১৫ আগস্ট কেক কাটার মাধ্যমে তারা স্বীকার করে নিয়েছে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে বিচারকে ইনডিমিটি অধ্যাদেশ দিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। সেই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হয়েছিল ৭৯ সালের পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশনে। এটি বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি বড় ঘটনা।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন -বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল সহ প্রমুখ।









