নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের গৃহদাহ চরম রূপ নিয়েছে। উপজেলা কমিটির সেক্রেটারি শাহজাহান ভূঁইয়াকে পদ থেকে অব্যাহতির একদিনের মধ্যেই রবিবার সভাপতি ও এমপিকে অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পাল্টাপাল্টি প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে রূপগঞ্জ আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এর ফলে স্থানীয়ভাবে বিরাজ করছে অসন্তোষ ও বিরোধ।
নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে স্থানীয় এমপি গাজী গোলাম দস্তগীর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লাকে দলবিরোধী ও অসাংগঠনিক কার্যক্রমসহ নানা অপকর্মের অভিযোগে দলের কার্যকরী পরিষদ হতে অব্যাহতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
রবিবারের সভা
উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহজাহান ভূঁইয়ার পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রবিবার সকাল ১০টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হকের সভাপতিত্বে কার্যকরী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আনা হয়। অসাংগঠনিক কার্যক্রম, জমি দখল, সন্ত্রাসী বাহিনী সৃষ্টি, সাতজন পিএ এবং সংগঠনকে গাজী লীগে রূপান্তরিত করাসহ নানা ধরনের অপকর্ম ও প্রশাসনকে অর্থের বিনিময়ে নিজস্ব বলয়ে আনার অভিযোগ আনা হয়। এছাড়াও সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মিথ্যা মামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এমপি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির এই ধরণের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই তাদের দলের কার্যকরী পরিষদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে।
শনিবারের সভা
শনিবার দুপুরে উপজেলা মিলনায়তনে উপজেলা আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক)।
সভায় বক্তব্যে রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোতালিব মিয়া, সহ-সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম, ডা. শওকত আলী, আবুল বাশার টুকু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মফিজ উদ্দিন আহাম্মেদ, প্রচার সম্পাদক মানজারি আলম টুটুল, বাবু কৃষ্ণ দয়াল দাস, রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হারেজ, ফেরদৌসি আলম নীলা, কাঞ্চন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম মাস্টার, তারাব পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মোস্তাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন, মিলন মিয়া প্রমুখ।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, শাহজাহান ভূঁইয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গত ১৬ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৬ বছর পর উপজেলা কমিটির আলোচনা সভা তাকে ডাকা হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ সদস্যদের সময়ের কোনও মূল্যায়ন করেননি। তিনি নিজের আখের গোছানোয় ব্যস্ত ছিলেন। তার কারণে দলীয় সাংগঠনিক অবস্থা একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন না দিয়ে বহিরাগতদের সমর্থন দিয়েছেন। বর্তমানে দল থেকে তিনি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগে ও উপস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সব সদস্যর সম্মতিক্রমেই শাহজাহান ভূঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রস্তাবটি লিখিতভাবে জেলা ও কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতি এখন প্রভাবশালীদের কাছে অসহায়। এর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না।’
পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
শাহজাহান ভূঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৬ ফেব্রুয়ারি আমরা সভা স্থগিত করেছিলাম। কিন্তু তারা প্রভাব খাটিয়ে ওই সভা করেছে। সভাটি যেহেতু অবৈধ সেহেতু অব্যাহতির প্রস্তাবনাও অবৈধ।’
অন্যদিকে তোফাজ্জল হোসেন জানান, ৬ ফেব্রুয়ারি উপস্থিতি সকলের সম্মতিক্রমেই শাহজাহান ভূঁইয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
/জেবি/টিএন/এইচকে/








