
নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় প্রকাশ্যে যৌতুকের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থী নাজমা আক্তারকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামীসহ দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে সোমবার রাতে মামলা করেন তিনি। ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসাদুজ্জামান মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
আসামিরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, জামায়াত ইসলামের আইনজীবী সংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলা ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাইনউদ্দীন এবং ওই নারীর স্বামী আব্দুস সাত্তার।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার জাকির হোসেন ও মাইনউদ্দিন আহম্মেদ নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়ায় নাজমা আক্তারকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। নির্যাতনের শিকার নাজমা ৬ ঘণ্টা অজ্ঞান ছিলেন। পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ওই নারী নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির কাছে বিচার দাবি করে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন বলেন, ‘আমি নাজমা আক্তারের স্বামীকে যৌতুক মামলায় জামিন করিয়েছি। এ কারণে কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময় ওই নারী আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে। পরে রেগে গিয়ে আমি তাকে মারধর করি।’
৬ ঘণ্টা অজ্ঞান থাকা প্রসঙ্গে জাকির বলেন, হাসপাতাল থেকে যে সার্টিফিকেট নাজমা এনেছেন সেটি ভুয়া।
ফতুল্লা মডেল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা এসআই আমির হোসেন জানান, মামলায় ওই নারী শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগ এনেছেন।
এদিকে ওই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান। তিনি জানান, সোমবার বিকালে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্য বিশিষ্ট এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
/এআর/এসটি/








