গাজীপুরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পণ্ড হয়ে গেছে বিএনপির কর্মসূচি। এই ঘটনায় পুলিশের চার জনসহ কমপক্ষে ২০ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও গুলি ছুড়েছে।
সোমবার (১০ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুর শহরে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ আয়োজন করে। সমাবেশে জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবির খান, আজিজুর রহমান পেরা, ভিপি হেলাল উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম ফজলুল হক মিলন দাবি করেন, সমাবেশ শেষে একটি শান্তিপূর্ণ শোক র্যালি দলের জেলা কার্যালয় থেকে বের করতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় যুবদল নেতা জাকিরসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। কমপক্ষে ১৫-১৬ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা থেকে সদর উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ডালিয়াসহ ৮/১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-উত্তর) রেজওয়ান আহমেদ দাবি করেন, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশ শেষ করার পরপরই সড়ক অবরোধ করে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। এই সময় জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তাদের মিছিল না করার অনুরোধ করি। কিন্তু তারা অনুরোধ উপেক্ষা করে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে এবং পতাকা ও ব্যানারের লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এতে এসআইসহ পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আত্মরক্ষার্থে পুলিশ টিয়ালশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটর পুলিশের সদর থানার ওসি জিয়াউল ইসলাম দাবি করেন, হামলায় মহানগর পুলিশের এসআই উৎপল, কনস্টেবল কামরুল ইসলাম, মনির হোসেন ও সাব্বির হোসেন আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।









