নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আট রাউন্ড বুলেট ছুড়েছে। সোমবার (২ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার বাহ্মন্দী ইউনিয়নের উজানগোপিন্দী-বিনাইরচর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে পাঁচ জন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া গ্রামের মিথুন, শাহজাহান কবির ও আব্দুল খালেকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে অপর আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এই ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রহিম ও রিপন মিয়া।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে ছোট বিনাইর চর দারুল উলুম মাদ্রাসায় ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে ছোট বিনাইরচর গ্রামের এক বাকপ্রতিবন্ধী ছেলেকে উজানগোপিন্দী গ্রামের লোকজন মারধর করে। এ নিয়ে রবিবার দিনভর ছোট বিনাইরচর এবং উজানগোপিন্দী গ্রামবাসীর মধ্যে উত্তেজনা চলেছে। এরই মধ্যে সোমবার দুপুরে ছোট বিনাইরচর গ্রামের মঞ্জুর কাজীর ছেলে মো. মিথুন কাজী স্মার্ট কার্ড আনার জন্য উজানগোপিন্দী উচ্চ বিদ্যালয়ে গেলে ওই গ্রামের লোকজন তাকে মারধর করে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভুলতা বিশনন্দী সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত লোকজন পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আট রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আর ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শত্রুতার জেরে ধরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতিতে শান্ত করতে পুলিশ গেলে তাদের ওপর চড়াও হয়। এতে ইটের আঘাতে পাঁচ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশ আট রাউন্ড শর্টগানের বুলেট ছুড়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। পরে বিস্তারিত বলতে পারবো।









