নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিহত দুই ভাইয়ের মেজো বোন শামসুন নাহার বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় এ মামলা করেছেন।
মামলায় নিহতদের চাচা মহিউদ্দিন ও চাচাতো ভাই মোস্তফাসহ তাদের পরিবারের ৯ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম।
এর আগে রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার কাঁচপুর পাঁচপাড়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন ওই এলাকার মৃত সানাউল্লাহ মিয়ার বড় ছেলে আসলাম সানি (৪৮) ও ছোট ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম রনি (৩৫)। এ ঘটনায় মেজো ছেলে রফিকুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চাচা মো. মহিউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল তিন ভাইয়ের। এর মধ্যে তাদের বাড়ির পাশ দিয়ে একটি সড়কের ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ওই ড্রেনে পাইপ স্থাপন করতে চেয়েছিলেন আসলাম সানি। এ নিয়ে চাচাতো ভাই মোস্তফার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে মোস্তফার নেতৃত্বে অস্ত্র নিয়ে সানির ওপর হামলা করা হয়। তাকে রক্ষা করতে রনি ও রফিকুল এগিয়ে এলে কুপিয়ে জখম করা হয়। বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসলাম ও রনি মারা যান। হত্যাকাণ্ডের পর মোস্তফা ও তার পরিবার সদস্যরা পালিয়ে যান।
সোনারগাঁ থানার ওসি মাহাবুব আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।’
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখনও কোনও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারিনি। আসামি গ্রেফতার করলে জানানো হবে। বিষয়টি তদন্ত করছি আমরা।’
তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজো ভাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তার বলেন, ‘মামলায় আমার চাচা শ্বশুর মহিউদ্দিন, তার ছেলে মোস্তফা, মামুন, নাফিজুল ও মারুফসহ তার পরিবারের ৯ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সর্বোচ্চ বিচার দাবি করছি। আমার স্বামী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
এদিকে, সোমবার দুপুরে কাঁচপুর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম। এ সময় তিনি নিহতদের স্বজনদের সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।









