মানিকগঞ্জে গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হযরত আলী বেপারীকে (৪২) গ্রেফতার করেছে র্যাব। তিন বছর নাম-পরিচয় গোপন করে ছদ্মবেশে পালিয়ে থাকা এই আসামিকে শনিবার (৬ মে) ঢাকার সাভার থানা রোড এলাকা গ্রেফতার করা হয়। এই আসামি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ফাঁড়িরচর গ্রামের নুরুল হক বেপারীর ছেলে।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০০১ সালে প্রেম করে একই গ্রামের মন্নাফ বেপারীর মেয়ে রোকসানা আক্তারকে বিয়ে করেছিলেন। ছেলের বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজন মেনে না নেওয়ায় স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতেন। তাদের ঘরে একটি সন্তানও জন্ম নেয়। এরপর যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর অত্যাচার চালান।
২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে সহযোগীদের নিয়ে রোকসানাকে পিটিয়ে হত্যা করে চাচা আব্দুল ওহাবের ঘরের বারান্দার আড়ার সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রাখে স্বামী। নিহতের বাবা পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। আসামি হযরত আলীকে গ্রেফতারের পর চার বছর কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পান।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হযরত আলীর অভিযুক্ত করে এবং এজাহারনামীয় বাকি চার আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে চার্জশিট দেন। ২০২০ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আলী হোসাইন আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন। রায়ের পর থেকে আসামি পালিয়ে বেড়ান।
কীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন
রায় ঘোষণার পর গ্রেফতার এড়াতে গাজীপুর চলে যান। গত ৩ বছর ধরে হযরত আলী নাম পাল্টে বনে যান সজীব আহমেদ। এরপর সাভার, আশুলিয়াসহ গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়ান। লোহার গ্যারেজের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
র্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেনেন্ট আরিফ হোসেন জানান, আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।









