বিএনপির বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না, এটা তারা অফিসিয়ালি বলছে। শুধু মেয়র নিয়ে সিটি করপোরেশন গঠিত হয় না। সেখানে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর থাকেন। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মহানগর ও থানা বিএনপির নেতাসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছে। শুধু মেয়র পদে নির্বাচন করছে না। তাই সরাসরি এটা বলা যাবে না, বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে আসছে, সরাসরি না হলেও বিএনপি পরিবারের সদস্য নির্বাচন করছে। সুতরাং নির্বাচন তারা করছে এটাই সঠিক। নির্বাচনে সবাই আসুক। আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই।’
মঙ্গলবার (৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় গাজীপুর বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণফ্রন্ট, জাকের পার্টি, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছে। সমমনা রাজনৈতিক দলসহ সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী পরিবার তথা ১৪ দল, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, গাজীপুরের যারা শান্তিকামী ও উন্নয়নকামী মানুষ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে যারা দুর্নীতিমুক্ত, ও স্বচ্ছ হিসেবে দেখতে চান এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সিটি পরিচালিত হবে এই প্রত্যাশা যারা পোষণ করে তারা আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। গাজীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছে এবং ঐক্যবদ্ধতার মধ্য দিয়ে আগামী ২৫ মে সিটি নির্বাচনে নৌকার পক্ষে বিজয় হবে।’
সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা-কে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন কি না- এমন প্রশ্নে নৌকার প্রার্থী বলেন, ‘আমি কাউকে শক্ত ও দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি না। সব প্রার্থীর প্রতি আমার সম্মান রয়েছে এবং আমি সবাইকে স্বাগত জানিয়েছি। কে শক্ত কে নরম সেটা সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। কে মেয়রের চেয়ারে বসবে সেটার সিদ্ধান্ত নেবে ভোটাররা।’
মেয়র নির্বাচিত হলে প্রথম পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ কী হবে- জবাবে আজমত উল্লা বলেন, ‘পরিকল্পিত ও দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন গড়ে তোলা হবে। যেখানে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং সেবার মান নগরীর সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। গাজীপুর বাংলাদেশের প্রধান একটি শিল্প নগরী। এই নগরীতে আমাদের শ্রমিক ভাইবোন যারা আছেন- তাদের কল্যাণার্থে ও নিরাপত্তার জন্য নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করব। কর্মরত শ্রমিকদের শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য প্রতিটি জোনে ডে কেয়ার সেন্টার করা হবে। একটি সবুজ সিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। নগরের নদী-নালা, খাল-বিল উদ্ধার করে সংস্কার এবং পুণঃসংস্কারের মাধ্যমে সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’








