গত কয়েক বছর ধরে চলমান ভোটের চিত্র পাল্টে গেছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। এই নির্বাচনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের ঢল নেমেছে। ভোটাধিকার প্রয়োগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে হাজির হয়েছেন তারা। সকাল ৮টায় এই ভোট শুরু হলেও কিছু কিছু কেন্দ্রে ৭টা বাজতেই এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন মানুষ। বেলা বাড়লেও কমেনি ভোটার। দলে দলে এসে দাঁড়িয়েছেন সারিতে। গোটা গাজীপুর শহরে এখন চলছে ভোটের উৎসব।
এদিকে, ব্যাপক ভোটারের সমাগম ঘটলেও দুপুর ১টা পর্যন্ত কোনও কেন্দ্রে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি। কোনও প্রার্থী নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও কোনও অভিযোগ করেননি। তবে কয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ধীরগতি খবর পাওয়া গেছে। ধীরগতির কারণে সেখানকার ভোটারের লাইনও অনেক লম্বা হচ্ছে।
সরেজমিনে কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, প্রায় সব কেন্দ্রেই ভোটারদের লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে। দুয়েকটি কেন্দ্রে ইভিএমে ধীরগতি হচ্ছে। এতে ভোটারদেরকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে রৌদে অপেক্ষমাণ ভোটারদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে, গোপন কক্ষে ঢুকে প্রভাবিত করায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ দুই কেন্দ্র থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন- ১০১ নম্বর কেন্দ্রে রিয়াদুল ইসলাম রিয়াজ ও ১০৩ নম্বর কেন্দ্রে আবু তাহের।
মহানগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের মদিনাতুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা রাশিদা আক্তার বলেন, সকাল সাড়ে ৭টায় কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছি। ৮টা থেকে ভোট শুরু হলে প্রথমেই সুযোগ পেয়ে ইভিএমে ভোট দিতে পেরে খুশি। এক মিনিটেরও কম সময় লেগেছে ভোট দিতে।
একই কেন্দ্রে হাজেরা বেগম (৬০) বলেন, অনেক সুন্দর ভোট হচ্ছে। কোনও ঝামেলা নেই। ভোট শুরু হওয়ার ১০ মিনিট আগে কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছি। কক্ষে প্রবেশ করে অল্প সময়ের মধ্য ভোট দিতে পেরে অনেক খুশি।
আরেকটি কেন্দ্রে বাবুল চন্দ্র ঘোষ (৫০) নামে এক ভোটার জানান, পৌনে ৯টার দিকে লাইনে এসে দাঁড়িয়েছি। ভোটার উপস্থিতি বেশি থাকায় আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়েও কক্ষে প্রবেশ করতে পারিনি। ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ভোটার সকাল থেকেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে। এতে বোঝা যায় মানুষ এ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেওয়ার জন্য এসেছে।
নজরুল ইসলাম (৫২) বলেন, সকাল ৮টায় লাইনে দাঁড়ানোর দেড় ঘণ্টা পর কক্ষে প্রবেশ করে ভোট দিয়েছি। দেড় ঘণ্টা কেন লাগলো- এমন প্রশ্নে তিনি বলে, ভোটার উপস্থিতি অনেক। ধারণা করিনি এত ভোটার আসবে। আগে জানলে সকাল ৭টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। তিনি ভোট দিতে চার মিনিট সময় লেগেছে বলে জানান।
ভোটের পরিস্থিতি তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, এখন পর্যন্ত ৫০টি কেন্দ্র পরিদর্শন করা হয়েছে। কোনও কেন্দ্রে কোনও ভোটার ভোট না দিয়ে ফেরত গেছে এমন ঘটনা নেই। সকালে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও এখন অনেক বেড়েছে। ভোটাররা উৎসবের মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিচ্ছেন। কোথাও আইনশৃঙ্খলা অবনতির অভিযোগ কোনও প্রার্থী দেননি।
জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান বলেন, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখরভাবে ভোট হচ্ছে। ভোটারের উপস্থিতিতো দেখতেই পাচ্ছেন। কোনও সহিংসতা নেই। মূল কথা, যার ভোট সে দিচ্ছেন। আগেতো বলতো একজনের ভোট আরেকজন দিচ্ছে। কেউ ভোট দিতে পারেননি এমন একটি অভিযোগও পাইনি। তবে ইভিএম নতুন তাই একটু সময় লাগছে। নির্ধারিত সময়ের পর ভোট দেওয়া বাকি থাকলে এই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।
জিএমপি কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, এ পর্যন্ত যা দেখছি, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিচ্ছেন। আমরা নির্বাচন কমিশনের বিধি মোতাবেক অনুযায়ী কাজ করছি। ভালো একটা নির্বাচন চলছে। ভোট শেষে দেশবাসী সন্তুষ্ট হবেন।
৪৪৩৫ সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ
এদিকে, সকাল ৮টা থেকে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের পঞ্চম তলায় কন্ট্রোল রুমে বসে ৪৪৩৫ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে এই নির্বাচন মনিটরিং করছে কমিশন। সকাল থেকেই নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত আহসান হাবীব খান, মো. আলমগীর, রাশেদা সুলতানা, নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।
মো. আলমগীর বলেন, ইভিএমে কিছু ক্ষেত্রে ননফাংশনাল থাকে, হয়তো কাজ করতে পারে না। কিন্তু ট্রাবলশুট করে সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর করা হয়। মেশিন কখনও কাজ না করলে আমাদের কারিগরি লোক সঙ্গে সঙ্গে তা ঠিক করে দিচ্ছে। ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে এটা ঠিক করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে এখন কোথাও আর তেমন কারিগরি ঝামেলার তথ্য আর আসছে না।









