বৃষ্টি-বিড়ম্বনা উপেক্ষা করে ঈদের ছুটিতে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু এলাকায় স্বল্পসংখ্যক বিনোদনপ্রেমীর উপস্থিতি দেখা গেছে। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে এসেছিলেন অনেকেই। তবে ক্ষণে ক্ষণে আকাশ কালো করে আসা ঝুমবৃষ্টি বাগড়া দিয়েছে সেই উপভোগে।
ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বৃষ্টির কারণে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও স্পিডবোটে ভ্রমণ করে পদ্মার নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দর্শনার্থীরা।
পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ার পর থেকেই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে প্রতি ঈদে আনন্দ উপভোগ করতে রাজধানীসহ এর আশাপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। তবে এবার বৃষ্টির কারণে মন ভরে উপভোগ করতে পারছেন না তারা।
সরেজমিনে পদ্মা নদীর তীরে বিনোদন স্পটগুলোতে স্বল্পসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতি দেখা গেছে। দর্শনার্থীদের মূল আগ্রহ থাকে ট্রলার বা স্পিডবোটে চড়ে পদ্মার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করার। কিন্তু ট্রলারঘাটেও সুনসান নীরবতা। তবে শিমুলিয়া ঘাট এলাকার খাবার হোটেলগুলোয় ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় দেখা গেছে।
রাজধানীর বাসাবো থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা সুমাইয়া মিশু বলেন, এবারের ঈদ আমাদের অন্য রকম হয়েছে। দুই দিন ধরে সারা দিন বৃষ্টি। এ জন্য কোথাও যেতে পারিনি। আজ আবহাওয়া একটু ভালো, তাই বাড়ির সবাই নিয়ে পদ্মা সেতু এলাকায় বেড়াতে এসেছি। পদ্মা সেতু দেখে সবাইকে নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে খাওয়া-দাওয়া করলাম। খুব ভালো লেগলো।
গাজীপুরের টঙ্গী থেকে বন্ধুবান্ধব নিয়ে বেড়াতে আসা মো. আসাদুল বলেন, আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পদ্মা সেতু দেখার। আজ ঈদের তৃতীয় দিন। সবাই মিলে এখানে এসেছি। অনেক ভালো লাগছে। এখানে নদীতে ঘুরে বেড়ানোর সঙ্গে পদ্মা সেতু দেখে মন জুড়িয়ে গেছে।
পুরান ঢাকা থেকে সপরিবার বেড়াতে আসা মেহরুন জাহান বলেন, নদী আসলে সব সময় সুন্দর। নদীর পাশাপাশি পদ্মা সেতু দেখলাম। অনেক ভালো লেগেছে। বেড়ানো শেষে পদ্মার তাজা ইলিশ ভেজে খাওয়া, সেটা আরও বেশি ভালো লেগেছে। এ জন্যই এত দূর থেকে আমাদের আসা।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ টুরিস্ট পুলিশের জোন ইনচার্জ সাবের রেজা আহম্মেদ জানান, পদ্মা সেতু এলাকায় দর্শনার্থীরা ভ্রমণে এলে আমরা চেষ্টা করি তারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারে। এ জন্য আমরা সেতু এলাকায় ও শিমুলিয়া ঘাটে নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি টিম রেখেছি।
তিনি আরও বলেন, এবার ঈদে তিন দিন ধরেই বৃষ্টি হচ্ছে। শিমুলিয়া ঘাটে দর্শনার্থীদের দাঁড়ানোর কোনও সিড নেই। এলাকাটি পুরো খোলামেলা। তাই বৃষ্টিতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে দর্শনার্থীদের।









