বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলামের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। ওই আঘাতের কারণে তার মাথার পেছনের অংশের একটি হাড় ভেঙে গেলে সেখান থেকে রক্তরক্ষণ শুরু হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন শহিদুল। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।
বুধবার (৯ আগস্ট) ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। শহিদুল হত্যার ৪৫ দিন পর হত্যার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মাজহারুল ইসলাম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শহিদুলের মাথায় কোনও ভোতা জিনিস দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়েছে। ওই আঘাতের কারণে শহীদুলের মাথার পেছনের অংশে ঘাড়ের একটু ওপরে একটি হাড় ভেঙে গেলে সেখান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভিসেরা প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’
ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মাজাহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শহিদুলের মাথায় ছাড়া শরীরে আর কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ‘লাশ ময়নাতদন্ত করার সময় আমরা তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পেয়েছিলাম। তখন রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কেউ কেউ বলছিলেন শহিদুলের হার্টে সমস্যা আছে, তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তার হৃৎপিন্ড সংগ্রহ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে পাঠাই। বুধবার (৯ আগস্ট) হাতে পাওয়া প্রতিবেদনে দেখা যায় শহিদুলের হার্টে কোনও সমস্যা ছিল না। তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা যাননি। পরে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই, মাথার রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা শহীদুলের শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাইনি।’
ঘটনার দিন রাতেই গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শহিদুলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরে ভিসেরা সংগ্রহ করে পরদিন ২৬ জুন পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গাজীপুরের একটি আদালতের নির্দেশনা ছিল দ্রুত এর প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য। গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়ার পর ময়না তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।
শহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। গত ২৫ জুন টঙ্গীর সাতাইশ বাগানবাড়ি এলাকার প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকদের পাওনা টাকা আদায়ের জন্য কাজ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন। এ ঘটনায় ২৬ জুন টঙ্গী পশ্চিম থানায় ছয় জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কল্পনা আক্তার। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। পরবর্তীতে গত ৬ জুলাই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাজীপুর জেলা শিল্প পুলিশকে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মামলা তদন্ত তদারক কমিটির সভাপতি ইমরান আহম্মেদ ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আমরা আগেই নিশ্চিত হয়েছিলাম শহিদুলকে আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের জন্য ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আমরা অপেক্ষা করেছি। এখন প্রমাণিত হয়েছে আঘাতের কারণেই তার (শহীদুলের) মৃত্যু হয়েছে। শহীদুলের উপর হামলা ও হত্যার পেছনে কারও ইন্ধন আছে কি না আমরা তা খতিয়ে দেখছি।
শিল্প পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, শহিদুল হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১০ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পাঁচ জন। বাকি পাঁচ জনকে গ্রেফতার আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ধরা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলছে। পুলিশ হামলার ইন্ধনদাতাকে খুঁজছে।








