মুন্সীগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মহড়া কক্ষে শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নাটকের মহড়া চলছিল। এ সময় শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে ৭ থেকে ৮ বছরের একটি শিশুকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়।
পরে শিশুটিকে কাছে ডাকেন নাটকটির নির্দেশক শিশির রহমান। তিনি তাকে কাছে ডেকে নিয়ে জানতে চান কেন এখানে একা একা ঘোরাঘুরি করছে?
পরে শিশুটি জানায় তার কষ্টের কথা। জানায় পারিবারিক অভাব, অনটন ও অত্যাচার-নির্যাতনের কথা। শিশুটি বলে, তার পরিবারের লোকজন তাকে এখানে ফেলে রেখে গেছে।
পরে নাট্যকার শিশির রহমান ও জিনাত দম্পতি মুন্সীগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে গতকাল রাতে নিজেদের বাসায় আশ্রয় দেয় শিশু মরিয়মকে।
এই বিষয়ে শিশির রহমান গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির ছবিসহ ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে একটি স্ট্যাটাস দেন ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে।
এরপরই বেরিয়ে আসে শিশুটির পরিচয়। শিশু মরিয়ম মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের রনছ-রুহিতপুর এলাকায় বাসিন্দা। পরে তার মা শিশির রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়েকে নিতে আসে শনিবার সন্ধ্যায়।
এ সময় মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবু সাত্তার মুন্সিকে খবর দেওয়া হলে তিনি এসে জিম্মাদার হয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুজন হায়দার জনি ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসাইন জাকিরের কাছ থেকে শিশুটিকে গ্রহণ করে তার মায়ের কাছে বুঝিয়ে দেন। এ সময় মুন্সীগঞ্জের অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শিশির রহমান ও জিনাত দম্পতি অশ্রুসিক্ত চোখে তাদের ‘এক রাতের মেহমান’ মরিয়মকে বিদায় দেন।
এ বিষয়ে শিশির রহমান বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিশুটিকে আমরা নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলাম। আমরা সবসময় ওর খোঁজ খবর রাখবো। মেয়েটির পাশে থাকবো।’
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সুজন হায়দার জনি বলেন, ‘সাংস্কৃতিক কর্মীরা উদার ও মানবিক হয়। এখানে মানবতার অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাট্যকার শিশির রহমান।’









