মুন্সীগঞ্জে ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রে ঢুকে ডাক্তার সেজে শিশুদের প্যাকেটজাত দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন এক কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি।
রবিবার (১৯ নভেম্বর) জেলা সদরের হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় টিকাদান কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। বেসরকারি কোম্পানির প্রতিনিধি টিকা কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে তাদের কোম্পানির গুঁড়া দুধ খাওয়ানো প্রেসক্রিপশন করছেন। আর এ কাজে সহযোগিতা করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
তথ্য পেয়ে কেন্দ্রটিতে গিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে দৌড়ে পালিয়ে যান বেসরকারি কোম্পানির এক বিক্রয় প্রতিনিধি। দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সরজমিনে দুপুরে হাটলক্ষ্মীগঞ্জ এলাকার টিকাদান কেন্দ্রে দেখা যায়, হাটলক্ষ্মীগঞ্জ বেসরকারি জুনিয়র স্কুলে শূন্য থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের ইপিআই টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। শিশুদের নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন মায়েরা। এদিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বসেই মায়েদের শিশুকে বায়োমিল নামক একটি প্রতিষ্ঠানের প্যাকেট দুধ খাওয়াতে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে গিয়াসউদ্দিন নামের এক বিক্রয় প্রতিনিধি।
প্রশ্ন করতেই তিনি প্রথমে নিজেকে স্বাস্থ্যকর্মী পরিচয় দেন। আরও জিজ্ঞাসা করতেই হাতে থাকা বেসরকারি প্রেসক্রিপশনের কাগজ পকেটে ভরে দ্রুত বের হয়ে যান রুম থেকে। কিছুটা এগিয়ে দৌড়ে কেন্দ্রে ত্যাগ করেন।
শিশুকে টিকা দিতে আশা নারী সোহাগী বলেন, আমার শিশুকে টিকা দিতে এনেছি। টিকার দেওয়ার পর আমাকে বললো গুঁড়া দুধ খাওয়াতে। আমিতো ভাবছিলাম উনি ডাক্তার। পরে আপনারা আসার পর চলে গেলেন।
আরেক নারী বলেন, আমাদের ডাক্তার বলেছিলেন মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে, এখানে সবাইকে বলা হচ্ছিল গুঁড়া দুধের কথা। পৌরসভা থেকে আসা স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে ওই লোক বসা ছিল। স্বাস্থ্যকর্মীরা সহযোগিতা না করলে সেতো বসতে পারতো না।
দোষ স্বীকার করে বায়োমিল কোম্পানির জেলা মার্কেটিং কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ বলেন, মাতৃদুগ্ধের বিষয়ে অনেক আইন রয়েছে। আমাদের ওই প্রতিনিধি টিকাদান কর্মসূচিতে যাওয়া ঠিক হয়নি।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা লিনা শাহা বলেন, এভাবে গুঁড়া দুধ খাওয়াতে পরামর্শ দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবো।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি আমি জেনেছি। তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে রিপ্রেজেন্টিটিভকে সরিয়ে দিতে। তাদের যদি ক্যাম্পেইন করার দরকার হয় আলাদা করবে। আমাদের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে না। পরে এমন ঘটনা শুনলে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম বলেন, মাতৃদুগ্ধের বিকল্প আমার কোনও গুঁড়া দুধ শিশুদের জন্য অনুমতি/পরামর্শ দেই না। কোনও কোম্পানির লোকজন যদি এটা করে থাকে তাহলে অবৈধ কাজ করেছে। তবে পৌরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা সরাসরি সিভিল সার্জন অফিস থেকে মনিটরিং হয় না। তাহলে তাদের তলব করা যেতো। তারপরও বিষয়টি আমি পৌর মেয়রকে জানাবো।









