গাজীপুরের শ্রীপুরে রেললাইনের নাটবল্টু খোলার অভিযোগে দুই শিশুকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে আনসার সদস্যরা। শিশুর স্বজনদের দাবি, মজা (খাবার) খাওয়ার জন্য না বুঝেই ওরা রেললাইনের নাটবল্টু খুলে থাকতে পারে।
রেললাইনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাদের আটক করে পুলিশে দিয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কয়টি নাটবল্টু খোলা হয়েছে এ বিষয়ে কোনও তথ্য জানান তিনি।
আটক দুই শিশুর মধ্যে একজনের (১১) বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া গ্রামে ও অপর শিশু (১১) শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর গ্রামের খাসপাড়া এলাকায় বসবাস করে। ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর গ্রামের (খাসপাড়া) এলাকায় রেললাইনের নাটবল্টু খোলার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।
শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শিশু এবং রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) অপর এক শিশুকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটক শিশুর মা বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করি। সন্ধ্যায় বাড়িতে এসে জানতে পারি রেললাইনের নাটবল্টু খোলায় আনসার সদস্যরা আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে।’
আটক অপর শিশুর মা বলেন, ‘আমার ছেলে তার নানার বাড়িতে থাকে। আমি পোশাক কারখানায় চাকরি করি। শনিবার (৩০ ডিসেম্বর) আনসার সদস্যরা রেললাইনের নাটবল্টু খোলায় এক শিশুকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমার ছেলেকেও থানায় নিয়ে যেতে বলে। পরে ইউপি সদস্যসহ আমার ছেলেকে থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ ছেলেকে তাদের হেফাজতে নেয়। মজা (খাবার) খাওয়ার জন্য না বুঝেই ওরা রেললাইনের নাটবল্টু খুলে থাকতে পারে।’
বরমী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুমন মিয়া বলেন, ‘রেললাইনের নাটবল্টু খুলে ফেলার অভিযোগে আনসার সদস্যরা প্রথমে এক শিশুকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর শিশুর মা আমাকে সঙ্গে নিয়ে তার ছেলেকে থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ তাকেও হেফাজতে নেয়।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান বলেন, ‘আটক দুই শিশুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’









