গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের জন্য আনা কোটি টাকা বোঝাই দুটি ট্র্যাংক লুটের ঘটনায় দুজনকে আটক করেছে কালিয়কৈর থানা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে কালিয়াকৈর উপজেলার রাখালিয়া ও টঙ্গীর বোর্ডবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
আটক নাঈমুল খুলনার পাইকগাছা এবং মিন্টুর বাড়ি বরিশাল বলে জানান ওসি আব্দুল মোতালেব।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোতালেব মিয়া জানান, নিরাপত্তা ও এটিএম ব্যবস্থাপনা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘মানিপ্ল্যান্ট’ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আফজালুল আবেদিন টাকা লুটের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ এক কোটি ৮৩ লাখ ২১ হাজার পাঁচ’শ লেখা হয়েছে।
বুথের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আগের দিন পুলিশ প্রথমে লুট হওয়া টাকার পরিমাণ এক কোটি দুই লাখ টাকা বললেও পরে জানানো হয়, টাকার পরিমাণ এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৭ হাজার। আর এজাহারে দেখানো হয়েছে ভিন্ন অংক। ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মী ও দুই কর্মকর্তা টাকা লুটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি।
মানিপ্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকার মিরপুরে তাদের প্রধান কার্যালয় থেকে ৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংকের বিভিন্ন বুথে দেওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাসে করে বের হন কর্মীরা।
মাইক্রোবাসে ছিলেন চালক শাজাহান মিয়া, নিরাপত্তাকর্মী এবারত ফকির ও ওয়াদুত মোল্লা এবং গানম্যান জিয়াউর রহমান ও শেখ খেলাফত হোসেন। তারা রাত পৌনে ১১টা থেকে আশুলিয়া, সাভারের নরসিংহপুর, জামগড়া ও গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার কয়েকটি বুথে টাকা লোড ও অফলোড করেন। রাত আড়াইটার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার হরিণহাটি এলাকায় এপেক্স ফুটওয়ারের গেইটের পাশে ডাচ বাংলার ফাস্ট ট্র্যাক বুথে যায় মানিপ্ল্যান্টের এই দলটি। বুথের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী এজাব উদ্দিন ও লোকমান হোসেনের উপস্থিতিতে তারা মাইক্রোবাস থেকে দুটি ট্র্যাংক নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন।
এ সময় অজ্ঞাত পরিচয় ১২-১৩ জন লোক নীল রংয়ের একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে ওই বুথে আসে এবং রড, চাপাতিসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে নিরাপত্তাকর্মী, গানম্যান ও মাইক্রোবাস চালককে মারধর করে। একপর্যায়ে ৪-৫ জন বুথে প্রবেশ করে টাকার ট্র্যাংক লুটে নেয় এবং পরে ডাকাত দলটি চন্দ্রার দিকে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ডাকাতির ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় খালি অবস্থায় টাকার ট্র্যাংক দুটি পাওয়া যায়। বুথের নিরাপত্তাকর্মী, মানিপ্লান্টের কর্মীসহ মোট ৯ জনকে কালিয়াকৈর থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এম এ মজিব বলেন, আমরা এটিএম বুথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ডাকাতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
/বিটি/এএইচ/








