নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ারের কারখানায় লাগা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়তলা ভবনটি ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে। এদিকে নিখোঁজের দাবিতে শত শত মানুষ কারখানার গেটের সামনে ভিড় করেছেন। আহাজারি করে ঢুকতে চাইছেন কারখানার ভেতর। মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে কারখানার গেটের সামনে এই দৃশ্য দেখা যায়।
ছেলেসহ নিখোঁজ ৫ স্বজনের খোঁজে আহাজারি করছেন রহিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে সুজন সিকদার এই কারখানায় এসেছিল। তার সঙ্গে আমার ভাশুরের আরও চার ছেলে এসেছিল। তাদের কেউ বাড়ি ফিরে যায়নি। তারা লুটপাটের ঘটনা দেখতে এসেছিল। তাদের কেউ এখানে কাজ করতো না।’
সুজন সিকদারের বোন রেহেনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাইরে যাইতে না করছিলাম। কেন গেলোরে ভাই!’
স্থানীয় কমপক্ষে ১০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে অগ্নিকাণ্ডের দিন যারা ওই ভবনে গিয়েছিল তারা সবাই কারখানার মালামাল লুটপাট করতে গিয়েছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বিলকিস বেগম বলেন, ‘গাজী কারখানা বন্ধ ছিল। তাই কারখানায় কোনও শ্রমিক ছিল না। যারা সেদিন কারখানার ভবনে প্রবেশ করে তারা সবাই লুটপাট করার জন্য গিয়েছিল।’
গাজী টায়ার কারখানার সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট হামলার পর থেকে কারখানাটি বন্ধ ছিল ৷ শুধু নিরাপত্তাপ্রহরী ছাড়া কারখানাতে কেউই ছিলেন না। রবিবার রাতে লুটপাটের পর কারখানায় আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।’
মঙ্গলবার সকালে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘দীর্ঘ চেষ্টার পর ভোর ৫টার দিকে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে ভবনের ভেতরে এখনও হিট আছে। সামান্য পরিমাণে কোথাও কোথাও আগুন জ্বলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। ভেতরে ঢুকে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।’
এর আগে, রবিবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টায় রূপগঞ্জের রূপসীতে গাজী টায়ার কারখানায় আগুন লাগে। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা পর সোমবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে।








