বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার পরিবার দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবার। একটি দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবার আগামী দিনে কখনোই ক্ষমতায় আসতে পারবে না। শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, পুতুল, শেখ সেলিমসহ তার পরিবারের সবাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।’
রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
শেখ হাসিনা ছাড়া ভারত কিছুই বুঝছে না উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘তার (শেখ হাসিনা) বাবা শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বানিয়ে ফেলে গেছেন। শেখ হাসিনা ওই তলাবিহীন ঝুড়িটাকেও খেয়ে ফেলেছেন। এখন এত দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি আমরা, বিদেশি রেমিট্যান্স ও টাকাপয়সা এলেও এই ধারদেনা শোধ করতে করতে আমরা এখন আর ভালো অবস্থানের মধ্যে নাই। শেখ মুজিব বলেছিলেন, ‘‘তোমরা রিয়্যালিটি মাইনা নাও।’’ তাই ভারতকে বলতে চাই, শেখ হাসিনা নাই, পালায়ছে। তোমরাও এই রিয়্যালিটি মাইনা নাও। ভারতকে মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী দেশ।’
সামনে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দলের মধ্যে বিভেদ তৈরি করা যাবে না। দলের জন্য একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করতে হবে। ৫ আগস্টের আগে অনেকে আওয়ামী লীগ ছিল, তারা হঠাৎ বলে উঠবে আমরা বিএনপি ছিলাম, সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন।’
সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শামা ওবায়েদ বলেন, ‘৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অনেক নতুন বিএনপির হয়তো জন্ম হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেকে এখনও বিএনপিতে আসতে চায়। যারা ১৬টি বছর আন্দোলন-সংগ্রামে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন, জেল খেটেছেন, জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভুলে গেলে চলবে না। তাদের এবং পরিবারের আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে হবে। আমাদের অনেক নেতাকর্মীর সঙ্গে মহিলা নেত্রীরাও জেল খেটেছেন। তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি আসলাম মিয়া, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিখন ও জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম রোমান প্রমুখ।









