গাজীপুরের বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘স্টুডেন্ট কেবিনেট’ নির্বাচন। সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অবাধ ভোট দানের অভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ নির্বাচনের আয়োজন করা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য থেকে জানা যায়।
শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী কাজী জয়নাব রাফিন। তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ভোট পাওয়ার আশায় কাউকে কিছু দেওয়া বা খাওয়ানো ঘুষ হিসেবে গণ্য হয়। তাই বিদ্যালয়ের কোনও শিক্ষার্থীকে তিনি কিছুই দেননি। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন।
একই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির নির্বাচনে ক্লাস ক্যাপ্টেন প্রার্থী হুমায়রা আকন্দ তুষ্মী বলেন, ভোটের আগে কাউকে হুমকি দেননি তিনি। কারণ এটা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন। বিদ্যালয়ের নির্বাচন থেকে তারা অনেক বিষয় শিখছেন যা ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগবে বলেও জানান তিনি।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানা বলেন, বিদ্যালয় চলাকালীন অ্যাসেম্বলি এবং বিরতির সময় প্রার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে ভোট চেয়েছেন। আর একই মঞ্চ থেকে সকল প্রার্থী নিজেদের যোগ্যতার তথ্য প্রকাশ করেন। আর নির্বাচনে তারা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।
অস্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা বলেন, নিজের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করতে গিয়ে যাতে বিদ্যালয়ের পাঠদানে বিঘ্ন সৃষ্ট না হয় সেদিকে নজর রেখেছি।
জাতীয় নির্বাচনের আদলে শিক্ষার্থীদের এ নির্বাচনেও তিনজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়। যারা সমগ্র নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। যাদের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন- দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার তমা।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে মোট ভোটার ৭৭০ জন। ৬ মার্চ তফসিল ঘোণা করা হয়। ৮ মার্চ মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়। মনোনয়নপত্রে ত্রুটি না থাকায় জমাদানকারী প্রত্যেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সুযোগ পান।
ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। কেউ নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করেনি। ফলে ভোট গ্রহণ, গণনা ও ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়নি। নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ায় প্রার্থীরা সকলেই ফলাফল মেনে নিয়েছে।
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আব্দুল কাদির বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিষয়ে শিক্ষকরা আগেই শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচন শিক্ষার অন্যতম প্লাটফর্ম। ভবিষ্যতে এ শিক্ষা কাজে লাগিয়ে তারা জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে পারবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন মিঞা বলেন, কোনও অভ্যাস প্রতিষ্ঠিত করতে হলে চর্চার প্রয়োজন। স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন সুষ্ঠু গণতন্ত্র চর্চার একটি অংশ। নির্বাচনে ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। একজন ভোটারের আটটি ভোট। পাঁচটি শ্রেণির প্রতিটিতে একটি ভোট বাধ্যতামূলক।
/এসএনএইচ/এইচকে/








