মুসল্লিদের আপত্তির মুখে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
১১ জুন ২০২৫, ০৯:৪৬আপডেট : ১১ জুন ২০২৫, ১৩:৫৭

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিরাপত্তার অভাব ও মুসল্লিদের আপত্তির মুখে ‘তাণ্ডব’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন আয়োজকরা। মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুর থেকে কালিহাতীর আউলিয়াবাদ এলাকায় জেলা পরিষদের কমিউনিটি সেন্টার কাম মাল্টিপারপাস হলে প্রচারিত সিনেমা বন্ধ করা হয়।

এর আগে শুক্রবার বাদ আছর পারকি ইউনিয়ন ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে সিনেমা বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়।

জানা যায়, স্থানীয় কামরুজ্জামান সাইফুল ও সাজু মেহেদীর নেতৃত্বে জেলা পরিষদের কমিউনিটি সেন্টার কাম মাল্টিপারপাস ভাড়া নিয়ে জনপ্রিয় তাণ্ডব সিনেমা পরিচালনার আয়োজন করা হয়। হলটি এক মাসের জন্য অনুমতি নেওয়া হলেও ১০ দিনের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। ঈদের দিন থেকে কালিহাতীর আউলিয়াবাদসহ সারা দেশের ১৩২টি প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি চলছে।

আন্দোলনকারী মাওলানা আব্দুল্লাহ বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়াও অসামাজিক কার্যকলাপ হতে পারে। সেই জন্য হলটি বন্ধের জন্য বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

আয়োজক সাজু মেহেদী বলেন, কমিউনিটি সেন্টার কাম মাল্টিপারপাস হলের এসি সার্ভিসিং, টিকিট প্রিন্টিং ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সবমিলিয়ে আমাদের নয় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আমরা সব মিলিয়ে আড়াই দিনের মতো ছবি চালাতে পেরেছি। ভালো সাড়া পাচ্ছিলাম। এ ছাড়াও আমাদের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। পোস্টার লাগাতে দেয়নি ও মাইকিংও করতে দেয়নি।

আয়োজক কামরুজ্জামান সাইফুল বলেন, শুরু থেকে ভালোই সাড়া পাচ্ছিলাম। আশপাশের বল্লা, পারকি ও বীরবাসিন্দা এলাকার লোকজন না এলেও সখিপুর ও মির্জাপুরের দর্শক বেশি আসতেন। সকালে কমিউনিটি সেন্টার কাম মাল্টিপারপাস হলের সামনে ব্যানারে লাগানোর পর দুই মিনিটও রাখতে পারিনি। বিভিন্নভাবে আমার কাছে হুমকি আসতে থাকে। নিরাপত্তাহীনতার অভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। স্থানীয় আলেম ওলামারা আমার যে ক্ষতি করলো, এমন ক্ষতি যাতে আর কারও না হয়।

কালিহাতী থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, আমার কাছে তারা এসেছিলেন। তাদের বলেছি, এই বিষয়ে আমি সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ নয়।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি। জেলা পরিষদের হলটি ভাড়া নিয়ে তারা সিনেমাটি চালাচ্ছিল। হলটি বন্ধ করার জন্য আমার অফিসে আবেদনও করেছে। তবে আমি ছুটিতে রয়েছি।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বলেন, আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের মাধ্যমে আমরা ওই হলটি ভাড়া দিয়েছিলাম। সঙ্গে কিছু শর্তও দিয়েছিলাম, তার মধ্যে অন্যতম ছিল, সেখানে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে সিনেমা চালানো বন্ধ করতে হবে। পরে কী হয়েছে, আর জানি না।

/এফআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টোল আদায়ে অনিয়মের মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর
টোল আদায়ে অনিয়মের মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের প্রতিবেদন ১০ ডিসেম্বর
ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া
ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া
বাংলাদেশের বিপক্ষে ইতিহাস গড়লেন স্মৃতি মান্ধানা
বাংলাদেশের বিপক্ষে ইতিহাস গড়লেন স্মৃতি মান্ধানা
ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেফতার
ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
‘বাইরে যেও না, মুভি দেখি’, অপ্রতিমের সঙ্গে বাবার সেই শেষ কথাগুলো
‘বাইরে যেও না, মুভি দেখি’, অপ্রতিমের সঙ্গে বাবার সেই শেষ কথাগুলো
আটকের আগে অপ্রতিমকে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখেছিল আনাস
আটকের আগে অপ্রতিমকে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখেছিল আনাস
অপ্রতিমের মায়ের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার
অপ্রতিমের মায়ের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার
ভারতীয় নৌ বাহিনিতে চাকরি, বাংলাদেশি যুবক গ্রেফতার
ভারতীয় নৌ বাহিনিতে চাকরি, বাংলাদেশি যুবক গ্রেফতার
অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে দাবি পুলিশের
অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে বলে দাবি পুলিশের