পৌরসভার ব্যাংক হিসাব থেকে বিল দেওয়ার নামে দেদারসে টাকা উঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। টিউবওয়েল স্থাপন, জঙ্গল পরিষ্কার, রাস্তা মেরামত, স্টেশনারি মালামাল ক্রয়সহ নাম সর্বস্ব ক্লাবের উন্নয়ন কাজের নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
শ্রীপুর পৌর সচিব মনিরুজ্জামান শিকদারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতায় এসব উঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সচিবের বিরুদ্ধে শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড এলাকার কাজী মোতাহার হোসেনের ছেলে মো. রাসেল মিয়া স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে টাকা উঠানোর একাধিক ফটোকপি,ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে।
সংযুক্ত নথিপত্র পর্যালোচনা ও কার্যাদেশ স্থল পরিদর্শন করে নানারকম অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বিভিন্ন কাজের নামে টাকা উঠানোর জন্য আবেদনকারীদের নাম থাকলেও পিতার নাম, গ্রামের নাম, মোবাইল নম্বর এবং সুনির্দিষ্ট কোনও ঠিকানা নেই। মালামাল সরবরাহের বিপরীতে টাকা উঠানোর জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব প্যাড ও সিলমোহর ব্যবহার করেনি।
আবুল হাশেম, সুলতানা এবং আব্দুল মতিন তাদের নিজ এলাকা কেওয়া পরিচয় দিয়ে জঙ্গল পরিষ্কারের জন্য প্রত্যেকে ২৪ হাজার ৬ শ’ টাকা করে উঠিয়েছেন। কাগজপত্রে কেওয়া বাজারের পূর্ব এলাকা, কেওয়া আকন্দ পাড়ার মোড় ও কেওয়া দক্ষিণ খণ্ডের জঙ্গল পরিষ্কারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে যে সব এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেসব এলাকায় গত ২০ বছর ধরে কোনও জঙ্গল নেই।
শ্রীপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে লোহাগাছ ফ্রেন্ডসক্লাবের বিপরীতে সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদা কাগজে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন করেছেন। এতে ২০ হাজার টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নাম সর্বস্ব শ্রীপুর উত্তরপাড়া হাসমত আলী একাদশের নামে ২০ হাজার টাকার অনুদান দেওয়া হয়েছে। স্টেশনারি মালামাল সরবরাহের নামে শ্রীপুর বাজারের মো. ফারুক আহমেদ সাদা কাগজে আবেদন করে ২৪ হাজার ৫শ’ টাকা উঠিয়েছেন।
কেওয়া বাজারের সাদেক মিয়া কেওয়া বাজারের পূর্ব থেকে পশ্চিমে আলমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইটা-বালু দিয়ে মেরামত বাবদ ২৪ হাজার ৬’শ টাকা উঠিয়েছেন। গিলারচালা গ্রামের আলম মিয়া গিলারচালা জালালের বাড়ি থেকে খোরশেদ আলমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইট-বালি দিয়ে মেরামত বাবদ ২৪ হাজার ৬শ’ টাকা উঠিয়েছেন। কেওয়া গ্রামের মো. আমান উল্লাহ কেওয়া বাজার থেকে দক্ষিণে পাগলা বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইটা বালি দিয়ে মেরামত বাবদ ২৪ হাজার ৬’শ টাকা উঠিয়েছেন। ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. আইনুল হক আকন্দ কেওয়া কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে তৈয়ব আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ইট-বালি দিয়ে মেরামত বাবদ ২৪ হাজার ৬’শ টাকা উঠিয়েছেন বলে নথিপত্রে উল্লেখ আছে। তবে ওই কাউন্সিলর এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
জুলাই’১৫ থেকে ২৩ মার্চ’১৬ পর্যন্ত সোনালী ব্যাংক শ্রীপুর হেডকোয়ার্টার শাখার পৌরসভা ৪১৮ নং হিসাব নম্বর থেকে ৩৬৭টি চেকের মাধ্যমে টাকা উঠানো হয়েছে। প্রতিটি চেকে টাকার পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৬শ’ টাকা। একই ব্যাংকের হিসাব নম্বর ২৯৩ থেকে ১৬৩টি চেকের মাধ্যমে একই অঙ্কের টাকা উঠানো হয়েছে।
অভিযোগে সংযুক্ত বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে,পৌর মেয়রের মৌখিক নির্দেশে এসব কাজ সম্পাদন করা হয়েছে বলে আবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তোলিত অর্থের চেকগুলো সাধারণত ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার এর মধ্যে।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর পৌরসভার সচিব মনিরুজ্জামান শিকদার বলেন, `নানা কারণে ও বিভিন্ন ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়।'
তবে জঙ্গল পরিষ্কার, রাস্তা সংষ্কারের নামে অর্থ বরাদ্দের জন্য আবেদন পত্রে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্যাড ব্যবহার না করার বিষয় নিয়ে তিনি কিছু বলতে চাননি।
এসব ব্যাপারে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান বলেন,উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো আমার মাধ্যমেই হয়। সচিবের এরকম কোনও অনিয়মের কথা আমার জানা নেই। যদি হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/জেবি/








