সড়কটির পাকাকরণ কাজ শুরু হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি’র তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বর্তমান ঢাকা বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ কে এম শাহাদাত হোসেন। তার গ্রামের বাড়ি এখানে। পাশেই নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের গ্রামের বাড়ি। তিনিও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে প্রস্তর ফলকটি এখন প্রায় ঝাপসা হয়ে গেছে। সড়কটি মাদারীপুর সদর উপজেলার মিঠাপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ‘মিঠাপুর-আলগী-কুনিয়া-সমাদ্দার হাট’ নামে পরিচিত।
কিন্তু এমন ভিআইপি সংশ্লিষ্টদের এই সড়কটিতে ইটের খোয়া বিছিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে প্রায় দেড় বছরধরে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু মিঠাপুরের সড়কটিই নয়, জেলা সদরের সঙ্গে উপজেলা ও উপজেলার সঙ্গে ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ এমন প্রায় অর্ধশত সড়কে চলাচলে ভোগান্তির যেন অন্ত নেই। মাদারীপুরের এলজিইডি’র সড়কগুলোর অবস্থা বেহাল। কোথাও খোয়া ফেলে হাটার উপযোগী না করেই ফেলে রাখা হয়েছে সড়কগুলো। মূলত নির্মাণ কাজের ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যেই হয়ে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায় সব সড়কের নির্মাণেই রয়েছে কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের অবহেলা। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন চলাচলের কারণে অল্পতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়কটি। তবে জনগণের দাবি- সময় উপযোগী করে সড়কগুলো তৈরি ও মেরামত করা হোক।
মিঠাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য কৃষকলীগ নেতা আব্দুর রব বেপারী বলেন, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে খোয়া ফেলে রাখায় জনগণের হাটাচলাও কষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রেজাউল দর্জী বলেন, দেড় বছরের বেশি সময় এই রাস্তার কাজ ফেলে রাখা হয়েছে। এটি বড় বড় ভিআইপিরা এসে উদ্বোধন করলেন, অথচ সেই রাস্তাও এত অবহেলিত।
মিঠাপুর গ্রামের আলেয়া বেগম বলেন, আগে কাঁচা অবস্থায় পায়ে হেটে গেলেও কোনও সমস্যা ছিল না, ভ্যানেও চড়া যেত। এখন তো তাও পারা যাচ্ছে না। সময় তো দেড় বছরের বেশি হয়ে গেলো। আর কতদিন কষ্ট করতে হবে?
বিভিন্ন এলাকার জনগণের অভিযোগে জানা গেছে, এলজিইডি’র সড়ক নির্মাণে জেলার সব জায়গাতেই এমন অব্যবস্থাপনা। নির্মাণ কাজ শুরু করে ফেলা রাখা হয়েছে অসংখ্য স্থানে। এছাড়া সড়ক তৈরি বা পাকাকরণের ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়।
জেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নির্মল কুমার বিশ্বাসের দাবি- অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণেই সড়কগুলো অল্পতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া মিঠাপুরে ঢাকা বিভাগীয় প্রকল্প পরিচালকের বাড়ির সামনের রাস্তাসহ অসমাপ্ত সব কাজ দ্রুত মেরামতে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
তবে কোনও অজুহাত নয়, বর্তমান সময় উপযোগী সড়ক তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ করে যোগাযোগে ভোগান্তি ও দুর্ভোগ নিরসনে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মাদারীপুরের সর্বস্তরের মানুষ।
/এএইচ/








