রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে একাই চারটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান। ৩৫তম বিসিএস প্রশাসনের এ কর্মকর্তা ইউএনও কার্যালয়ের পাশাপাশি গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক, গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর মাসে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন নাহিদুর রহমান। যোগদানের পর থেকেই দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। শুধু দাফতরিক কাজ নয়, উপজেলার অনেক মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্বও তিনি সফলভাবে পালন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর উপজেলা চেয়ারম্যানদের অপসরণ করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ইউএনও নাহিদুর রহমান।
এদিকে পৌর মেয়রকে অপসরণ করা হলে প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান গত ১ মে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫ মাসের সার্ভে অ্যান্ড সেটেলম্যান প্রশিক্ষণে যান। ফলে ওই দুই দপ্তরের দায়িত্বও গিয়ে পড়ে ইউএনও নাহিদুর রহমানের কাঁধে। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ চারটি দফতরের দায়িত্ব একাই সামলাতে হচ্ছে ইউএনওকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউএনও অফিস ও উপজেলা পরিষদ একই ভবনে অবস্থিত হওয়ায় তিনি সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহে তিন-চার দিন পৌরসভা ও উপজেলা ভূমি অফিসে বসেন, যাতে জনগণ সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন। দিনব্যাপী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অফিসিয়াল কাজের পাশাপাশি বিগত দিনে উপজেলার এক ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক অসহায় পরিবারের বাকপ্রতিবন্ধী মেয়ের বিয়ে প্রদানে ভূমিকা পালন, দ্রুত হস্তক্ষেপে লিজ প্রদান কার্যক্রম বন্ধ করে শিশু ও তরুণদের খেলার মাঠ রক্ষা, ভেঙ্গে পড়া বাঁশের সাঁকো সংস্কার করে স্থানীয় কৃষক ও জেলেদের যাতায়াত সহজলভ্য করা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্রদেরকে সঙ্গে নিয়ে তারুণ্য ২৪ গ্রন্থাগার উদ্বোধন, প্রত্যন্ত গ্রামঅঞ্চলে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা,
রাসেল ভাইপার সাপের আতঙ্ক থেকে রক্ষায় কৃষকদের মাঝে গাম বুট বিতরণ, অবৈধভাবে পদ্মা নদী, পুকুর থেকে বালু, মাটি উত্তোলন বন্ধে ধারাবাহিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সংস্কৃতি চর্চার বিকাশের লক্ষ্যে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নৃত্য প্রশিক্ষণ চালু করা সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন ইউএনও।
এ প্রসঙ্গে ইউএনও নাহিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিয়মাতান্ত্রিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ চারটি দফতরের দায়িত্ব পড়েছে আমার ওপর। প্রতিটি দফতরের দায়িত্বই সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার চেষ্টা করছি। যদিও আমার জন্য এটা অনেক বড় চাপ। তারপরও সরকারি বিধান পালন করতে হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদান করলে তখন দায়িত্ব কিছুটা কমে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করছি। দায়িত্বের পরিধি বড় বা ছোট নয়, বরং কাজটাকে আন্তরিকভাবে করা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন এখানে আছি, ততদিন জনগণের কল্যাণে কাজ করবো। আমি বিশেষভাবে নিশ্চিত করতে চাই, যেন কেউ কোনও হয়রানির শিকার না হন। জনগণ আমাকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছে, এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’









