এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর। তবে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে ভোটারদের চোখে এগিয়ে রয়েছেন আসনটিতে বিএনপির প্রথম নারী প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাকে এগিয়ে রেখেছেন ভোটাররা।
আসনটিতে ছয় জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপির নায়াব ইউসুফ আহমেদ, জামায়াতের মো. আবদুত তাওয়াব, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মো. রফিকুজ্জামান মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের কে এম ছরোয়ার, স্বতন্ত্র মোরশেদুল ইসলাম ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আরিফা আক্তার বেবী।
আসনটির ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের মেয়ে নায়াব ইউসুফ। দাদা এবং বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছিল। দাদা ইউসুফ আলী চৌধুরী ওরফে মোহন মিয়া সাবেক মন্ত্রী, রাজনীতিক ও জমিদার হিসেবে যেভাবে জনহিতকর কাজ করে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন, ঠিক সেসব কাজকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নেন চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। তার পথ ধরে এগিয়েছেন নায়াব ইউসুফ। বাবার মৃত্যুর পরে সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাজনীতিতে এসে তৃণমূলের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে অনায়াসে মিশে নির্বাচনি এলাকায় যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার।
বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও পাঁচবারের এমপি, জনপ্রিয় এবং সব মহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের বড় মেয়ে নায়াব ইউসুফ আগে থেকেই রাজনীতিতে ছিলেন। বাবা মন্ত্রী থাকাকালীন ফরিদপুরের বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। এলাকার উন্নয়নের কথা এখনও অনেকের মুখে মুখে। সেই রাজনৈতিক পরিবারের নায়াব ইউসুফ ধানের শীষের ভোটযুদ্ধে এগিয়ে আছেন।
ঠিক একই কায়দায় মানুষের কল্যাণের মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছে গেছেন নায়াব ইউসুফ। নিরহংকার, সদা হাসিমুখ, বিনয়ী, সাহসী এবং উদার মনের অধিকারী নায়াব ইউসুফ একজন সার্বক্ষণিক রাজনীতিবিদ। তার সঙ্গে দেখা করতে বা কথা বলতে পারেন যে কেউ, যা অন্য অনেক এমপি প্রার্থী থেকে তাকে আলাদা করে চেনার আরও এক সহজ উপায়। জমিদারি রক্ত তার শরীরে কিন্তু আচরণে একজন সাধারণের চেয়েও সাধারণ। নায়াব ইউসুফ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর মাদকের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে ইতিমধ্যে ফরিদপুরের সব মহলের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এবারের নির্বাচনে শেষ নির্বাচনি জনসভা করেন শহরের ময়েজ উদ্দিন স্কুল মাঠে। তিনি সেখানে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। পরে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের প্রশংসা পান।
দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দলের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকলেও কখনও দলীয় প্রতিযোগীকে নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দেন না নায়াব ইউসুফ। এই রাজনৈতিক শিষ্টাচার তাকে আলাদা করে চিনতে সাহায্য করে। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভানেত্রী তিনি। নিজ নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ভোটারদের মাঝে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে ঢাকায় একইসঙ্গে দুটি বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, ঐতিহাসিকভাবে ফরিদপুর-সদর আসন বিএনপির ঘাঁটি। প্রতিযোগিতামূলক সব নির্বাচনেই এখানে বিএনপির জয়-জয়কার হয়েছে। বলতে গেলে মোহন মিয়া-কামাল ইউসুফ পরিবারের জয় হয়েছে। শুধু কামাল ইবনে ইউসুফই যে পাঁচবার এমপি হয়েছেন তাই নয়, তার বাবাও ছিলেন মন্ত্রী, অবিভক্ত ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, আইন প্রণেতা। কামাল ইবনে ইউসুফের এক চাচা চৌধুরী আবদুল্লাহ জহিরউদ্দিন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা যেমন ছিলেন, তেমনি পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। আরেক চাচা চৌধুরী এনায়েত হোসেন ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য।
নেতাকর্মীরা বলছেন, বংশপরম্পরায় এই যে মানুষের সঙ্গে কাজ করা, জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনকল্যাণ করার সেই ধারাবাহিকতা নিশ্চয়ই নায়াব ইউসুফ বজায় রাখবেন। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়েও ২০১৯ সালে ঠিকই আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কামাল ইউসুফকন্যা।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ভোটার ও স্থানীয় লোকজনকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, অতীতের মতো আপনারা যেভাবে আমার বাবার পাশে ছিলেন এবার তার কন্যার পাশে থাকবেন, এটা আমি প্রত্যাশা করি। এই চৌধুরী পরিবার ফরিদপুর উন্নয়নের ইতিপূর্বে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। সব মানুষের বিপদে পাশে থেকেছে। আমার বাবার উন্নয়নের অসমাপ্ত কাজ আপনাদের ভোটের মাধ্যমে জয়ী হতে পারলে অবশ্যই সমাপ্ত করবো। এই শহরকে দুর্নীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজ মুক্ত করবো। আমাদের তরুণ ও যুব সমাজ যাতে ধ্বংস না হয়, সেজন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবো।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর এবং স্বাভাবিক আছে। আমি আশা করবো নির্বাচন শেষ এবং ফল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত এমন পরিবেশ অব্যাহত থাকবে। প্রচারণার শেষ সময় পর্যন্ত এই আসনের আমি এবং আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা সহনশীল ছিল। এজন্য তাদের আমি ধন্যবাদ জানাই।’
নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে কাছে টানার চেষ্টা করেছে। তারপরও বলি মানুষ এখন আর আগের মতো বোকা নয়, বরং যারা ইসলামকে বেচাকেনা করে ভোট টানার চেষ্টা করেছে, ভোটাররা তাদের ব্যাপারে সতর্ক আছে।
আমার পরিবার এই অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিন সেবা করেছে। আমার দাদা ও বাবার অবদান মানুষ কখনও ভুলেনি, আগামীতেও ভুলবে না। আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।’









