স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৪০আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৪০

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর এক সমর্থক হামলায় নিহত হয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ধানের শীষের সমর্থক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। 

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার আধারা ইউনিয়নের নায়েব চর আবদুল্লাহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জসিম উদ্দিন (৩০) নায়েব চর আবদুল্লাহ গ্রামের মাফিক নায়েবের ছেলে। বাড়িতে ঢুকে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

জসিম উদ্দিন নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ (সদর-গজারিয়া) আসনের ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। অভিযুক্তরা হলেন ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ওই গ্রামের নাসির দেওয়ান ও তার ছেলে শাকিল দেওয়ান। শাকিল সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জসিম উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন ফুটবল প্রতীকের সমর্থক ছিলেন। ওই গ্রামের ধানের শীষের সমর্থক ছিলেন নাসির দেওয়ান ও তার ছেলে শাকিল। আজ বিকাল ৩টার দিকে জসিম উদ্দিন ও পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ছিলেন। তখন নাসির, শাকিলসহ ৫০-৬০ জনের একটি দল ওই  বাড়িতে যান। তারা জসিম উদ্দিন, তার বাবা মাফিক নায়েব, ভাই মোখলেস নায়েব ও মহসিন নায়েবকে পিটিয়ে আহত করেন। গুরুতর অবস্থায় দুই ভাই জসিম ও মোখলেস এবং বাবা মাফিক নায়েবকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জসিম মারা যান।

জসিমের বড় ভাই মসিউর নায়েব বলেন, ‘আমরা ফুটবলের (প্রতীক) নির্বাচন করেছিলাম। এটাই আমাদের একমাত্র দোষ ছিল। আমরা কখনও কারও সঙ্গে কোনও অন্যায় করিনি। কারও সঙ্গে কোনও শত্রুতাও ছিল না। নাসির ডাক্তার ও তার ছেলে শাকিলরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।’

এ বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাকিল বলেন, ‘সকালে জসিম উদ্দিনদের লোকজন আমাদের সমর্থকদের ওপর হামলা করেন। পরে আমি এ ঘটনায় অভিযোগ করতে থানায় যাই। তখন জসিম ও তার লোকজন এলাকা থেকে বের হয়ে যেতে পুনরায় আক্রমণের প্রস্তুতি নেন। পরে এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে জসিমদের মারধর করেছেন। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্ববিরোধ এবং নির্বাচনি দ্বন্দ্বের জেরে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে শুনেছি। ওই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’  

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান। দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী (ফুটবল) হন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
সর্বশেষ খবর
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী