৪২ কেজিতে মণ, আরও ১০ টাকা খাজনা, কৃষকের লোকসান কেউ দেখে না

মইনুল হক মৃধা, রাজবাড়ী
১৬ মে ২০২৬, ১৮:২৯আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১৮:২৯

৪০ কেজিতে এক মণ হলেও রাজবাড়ী সদর খানখানাপুর ও গোয়ালন্দের হাটে এই ওজন পদ্ধতি মানা হচ্ছে না। এসব হাটে কৃষিপণ্য বিক্রির সময় কৃষকদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত দুই কেজি। স্থানীয়ভাবে ‘ধলতা’ নামে পরিচিত এই প্রথার কারণে এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকদের গুনতে হচ্ছে ৪২ কেজি। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এ অনিয়মে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন জেলার লাখো কৃষক।

কৃষকদের অভিযোগ, শুধু ৪০ কেজিতেই নয়, ৫০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করলেও দাম দেওয়া হয় ৪৭ কেজির। আর ৬০ কেজির বেশি হলে বাদ যায় আরও বেশি। ধলতার নামে এমন অতিরিক্ত পণ্য নেওয়া উপজেলার প্রায় সব হাট-বাজারেই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। প্রতিবাদ করলে কৃষকদের অপমান, দুর্ব্যবহার এমনকি পণ্য না কেনার হুমকির মুখেও পড়তে হয়। এ অবস্থায় ধলতা-ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলায় প্রায় ৪০টি হাটে পেঁয়াজ বিক্রি করা হয়। এসব পেঁয়াজের বড় অংশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। আকার ও মানভেদে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। তবে ৪২ কেজির বিপরীতে কৃষক দাম পান ৪০ কেজির। অতিরিক্ত দুই কেজি ধলতা হিসেবে নেওয়া হয়।

কৃষকদের অভিযোগ, শুধু ৪০ কেজিতেই নয়, ৫০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করলেও দাম দেওয়া হয় ৪৭ কেজির

একাধিক কৃষক জানান, প্রতি মণ পেঁয়াজে ১০ টাকা খাজনা দিতে হয়। এরপর দুই কেজি ধলতা দিতে হয়। তাহলে কৃষকদের আর কী থাকে। প্রতিবাদ করলে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নবুওছিমুদ্দিন পাড়া গ্রামের আইজল গায়ান বলেন, ‘আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পেঁয়াজ চাষ করি। প্রতিকূল পরিবেশ হলে ফলন কম হয়। কখনও কখনও ক্ষেত তলিয়ে যায়। এত কিছু পর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির জন্য নিয়ে আসি। এমনিতে এক হাটে দাম বেশি গেলে পরের হাটে কমে যায়। এরপর আবার মণপ্রতি ধলতায় আমাদের লোকসানের বিষয়টি কেউ দেখছে না।’

খানখানাপুর ইউনিয়নের বেদনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হানিফ আলী বলেন, ‌‘আশপাশের সব হাটে একই অবস্থা। দুই কেজি করে বেশি দিতে হয়। শুধু পেঁয়াজ নয়, কৃষক যে ফসলই বাজারে নেয়, একই নিয়ম। সে পাট হোক, ধান হোক বা অন্য ফসল। প্রতিবাদ করলে লাঞ্ছিত হতে হয়। আমাদেরও বাধ্য হয়ে মেনে নিতে হয়।’

ধলতা-ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা

গোয়ালন্দ বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, মণে দুই কেজি বেশি নেন। আশপাশের প্রতিটি হাটেই এভাবে নেওয়া হয়। কারণ কাঁচামালে ফেলনা যায়। কৃষকরা ৪৭ কেজি আনলে ৪৫ কেজি ধরেন তারা। সকালে পেঁয়াজ কিনলে বাতাসে রাখলে রাতে মণে ২-৩ কেজি কমে যায়। এখানে লোকসান গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। এজন্য মূলত বেশি নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘কৃষক বা চাষিদের কাছ থেকে প্রতি মণে দুই কেজি করে বেশি নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি। এ বিষয়ে দুই-একদিনের মধ্যে বাজার ব্যবসায়ী পরিষদ, আড়তদার, চাষিদের নিয়ে আলোচনা করে তাদের ধলতা প্রথা বাদ দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হবে। যদি এরপরও তারা ধলতা নিয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এএম/ 
সম্পর্কিত
ক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে ২ কৃষকের মৃত্যু 
এক হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার ড্রাগন বিক্রি
এক ‘গুজবে’ বাজার অস্থির, কৃষকদের সর্বনাশ
সর্বশেষ খবর
‘সুইজারল্যান্ড আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল’
‘সুইজারল্যান্ড আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল’
দেড় ঘণ্টা মাটি সরিয়ে মিললো গৃহবধূর লাশ, অল্পের জন্য বাঁচলেন স্বামী ও তিন সন্তান
দেড় ঘণ্টা মাটি সরিয়ে মিললো গৃহবধূর লাশ, অল্পের জন্য বাঁচলেন স্বামী ও তিন সন্তান
কাতারের সাবেক আমির হামাদ বিন খলিফা আর নেই
কাতারের সাবেক আমির হামাদ বিন খলিফা আর নেই
বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কোটি কোটি টাকার পণ্য
বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কোটি কোটি টাকার পণ্য
সর্বাধিক পঠিত
মেসির দুই মিসের পর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি কে নেবেন জানালেন কোচ
মেসির দুই মিসের পর আর্জেন্টিনার পেনাল্টি কে নেবেন জানালেন কোচ
মাঝ নদী থেকে ফেরি ঘুরিয়ে ঘাটে আনলেন এমপি হান্নান মাসউদ
মাঝ নদী থেকে ফেরি ঘুরিয়ে ঘাটে আনলেন এমপি হান্নান মাসউদ
‘ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই দেশে ফিরুন’—শেখ হাসিনাকে আসিফ নজরুল
‘ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই দেশে ফিরুন’—শেখ হাসিনাকে আসিফ নজরুল
ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন, ঘরছাড়া ৬ লাখের বেশি মানুষ
ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন, ঘরছাড়া ৬ লাখের বেশি মানুষ
আরেক পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, কারণ কী
আরেক পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, কারণ কী