সাইপ্রাসে নিখোঁজের ৯ দিন পর শাহারিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশটির পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বলেও জানা গেছে। রবিবার (২১ জুন) সাইপ্রাসের পুলিশ নিখোঁজের লাশ উদ্ধার করে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এবং রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা।
ইউএনও জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
নিহত ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিস প্রবাসী নাসির উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, চার মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাসে পাড়ি জমান শাহরিয়ার আহমেদ ইমন। সেখানে ওরোক্লিন এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি সেখানে কোফিনু এলাকায় একটি কারখানায় পার্ট-টাইম কাজ নেন। ১২ জুন কাজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ইমন।
নিখোঁজ হওয়ার রাতে তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে নিজের অবস্থানের একটি লোকেশন শেয়ার করে পাঠান। এরপর থেকে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তার বাবা গ্রিস প্রবাসী নাসির উদ্দিনের কাছে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি করে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠায়। এ সংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সাইপ্রাসের একটি গণমাধ্যম।
দুই দিন আগে অপহরণকারীরা ইমনের পরিবারের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ করে। ভুক্তভোগী পরিবারটি পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজিও হয়। তারপর থেকে অপহরণকারী চক্রটি ইমনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। রবিবার সাইপ্রাসের পুলিশ নিখোঁজ ইমনের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করে।
ইমনের মামা আল ফারুক বলেন, একটি চক্র আমার ভাগ্নে ইমনকে জিম্মি করে ৩৫ হাজার ইউরো দাবি করে। এত টাকা দিতে পারবো না বলে তাদের জানাই। সর্বশেষ পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজিও হই। কিন্তু বিষয়টি পুলিশ ও প্রবাসীদের মধ্যে জানাজানি হলে আমার ভাগ্নেকে হত্যার পর মাটিচাপা দেয় চক্রটি। সাইপ্রাসের সরকারের কাছে ইমন হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই। এ সময় নিহত ইমনের লাশ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।









