মাদারীপুরে প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। রোদের প্রচণ্ড তাপে গলে যাচ্ছে সড়কের পিচও। ফলে জনগণকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। এদিকে, স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অস্বাভাবিক কম। গরমজনিত বিভিন্ন রোগে হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের চোকদার ব্রিজ ও উকিলবাড়ির মাঝামাঝি এলাকার বেশ কয়েকটি জায়গায় গত কয়েকদিন ধরে গরমে সড়কের পিচ প্রায় গলে গেছে। এতে সড়কে রিকশা-ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
ভ্যানচালক শাহালম বলেন, ‘এত্ত গরম যে রাস্তার পিয়াইজ (পিচ) গইল্যা গেছে, আমাদের গাড়ি-গুড়ি চালাইতে কষ্ট হয়’।
স্থানীয় মহসিন আলী বলেন, ‘রাস্তার চারপাশে গাছগুলো কাটার কারণে মনেহয় গরম একেবারে বেড়ে গেছে। গরমে পিচগুলোও গলে গেছে এই রাস্তার’।
উকিলবাড়ি এলাকার সাজেদা বেগম বলেন, ‘গরমে রাস্তার পিচও গইল্যা গেছে, এই প্রথম দেখলাম। এত গরম বাঁচি কি মরি আল্লায় জানে’।
এ দিকে, গরমের কারণে স্কুল-কলেজগুলোতেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারে কম ছিল গত কয়েক দিন। যারা বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন তারা একটু প্রশান্তির পরশ খুঁজছেন ঠান্ডা পানীয়তে। তাই আইসক্রিম, ডাব, শরবত বিক্রেতাদের কদর বেড়েছে।
মাদারীপুর পৌর অফিস সংলগ্ন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এক শরবত বিক্রেতা বলেন, আগে আইসক্রিম বেঁচতাম আর এখন বিক্রি করি শরবত। বিশুদ্ধ পানির সঙ্গে বরফ, স্যালাইন, অরেঞ্জ পাউডার দিয়ে বানানো সরবতের বিক্রি এখন বেশি।
এদিকে, গরমে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্ত থাকতে বিশুদ্ধ পানি পান এবং শিশুদের পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন মাদারীপুর সদর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. মাহমুদ হোসাইন। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষ এমন তৃষ্ণার্ত থাকে যে পানি বিশুদ্ধ কিনা তা না দেখেই পান করেন। আর এ কারণে জন্ডিস, হেপাটাইটিসসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। গরমে পানিশূন্যতা রোধে স্যালাইন বা লবণ পানি খাওয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশি নজর দেওয়ার কথা বলেন।
মাদারীপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা আব্দুর রহিম সান্টু জানান, বুধবার মাদারীপুরের তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া চলতি সপ্তাহে মাদারীপুরের গড় তাপমাত্রাও প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে মাদারীপুর আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট ইয়াহু ওয়েদার এবং এ্যাকুয়া ওয়েদারসহ কয়েকটি সংস্থার হিসাব মনে, চলতি সপ্তাহে মাদারীপুরের গড় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, বৈরি আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মাদারীপুরের কালকিনির ১৩টি ও রাজৈরের ৬টি ইউনিয়নের নির্বাচনের প্রচারণায় থাকা প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকরা। কারণ প্রচণ্ড খরতাপ ও গরম উপেক্ষা করে তাদের যেতে হচ্ছে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। আয়োজন করতে হচ্ছে উঠান বৈঠক, জনসভা ও আলোচনা সভা।
/বিটি/এএইচ/








