ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় আজও শ্রমিক বিক্ষোভ চলছে। মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সকাল থেকে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের অন্তত ৫০ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
তবে এই আন্দোলনে শ্রমিক পরিচয়ে বোরকা ও হেলমেট পরে একদল লোক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন।
তিনি বলেছেন, ‘বোরকা ও হেলমেট পরে কারা শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা করছে, আমরা তাদের শনাক্ত করছি। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।’
বিকালে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এসপি শামীমা পারভীন।
শামীমা পারভীন বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে গার্মেন্টসশিল্পকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের নাম ব্যবহার করে শিল্প ধ্বংস এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার কাজে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
বোরকা ও হেলমেট পরে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে আমরা হেলমেট বাহিনীর সঙ্গে পরিচিত। একইভাবে বোরকা বা হিজাবকে ব্যবহার করে যারা অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তাদের সম্পর্কেও জানি। তারা পরাজিত শক্তির লোক। এক্ষেত্রে পুলিশের কাছে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি চলমান আছে। বোরকা ও হেলমেট পরে কারা শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে, তাদের শনাক্ত করছি।’
এসপি বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের মূলত কোনও দাবি-দাওয়া ছিল না। যেকোনো দাবির একটি সূচনা ও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া থাকে। নিয়মতান্ত্রিকভাবেই দাবিগুলো উত্থাপিত হয়। কিন্তু কোনও ধরনের প্রক্রিয়া ছাড়াই হঠাৎ করে দুই দিন আগে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হয়েছে। ঢাকা জেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত। ইপিজেড শান্ত রয়েছে। আশুলিয়া ও সাভারের প্রতিটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছেন এবং কারখানাগুলো খোলা রয়েছে। হঠাৎ করে শ্রমিক অসন্তোষ শুরু হতে দেখা গেছে। তবে এরা প্রকৃত শ্রমিক নয়; বরং শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে বাইরে থেকে আসা কিছু বিশৃঙ্খলাকারী। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।’
শামীমা পারভীন বলেন, ‘বোরকা পরা ব্যক্তি ও হেলমেট বাহিনীর পরিচয় আমরা শনাক্ত করেছি। এ বিষয়ে আমরা অনেক তথ্য পেয়েছি। কারা তাদের ইন্ধন দিচ্ছে, কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে এবং কারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, সে বিষয়েও আমরা তথ্য পেয়েছি। অবশ্যই তাদের গ্রেফতার করা হবে।’