গাজীপুরের মধ্যপাড়া এলাকায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রুবেল হোসেন (২৪) নামে এক যুবকের দুই পা ভেঙে দেওয়ায় জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক আলী আকবরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার রুবেলের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বর্তমানে তিনি স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, শুক্রবার (২২ এপ্রিল) রুবেল হোসেনের সঙ্গে ধীরাশ্রম এলাকার ইব্রাহীমের মেয়ের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বুধবার রাতে জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক আলী আকবর ও ফিরোজ উদ্দিনসহ ৫ পুলিশ সদস্য মামলার কথা বলে রুবেলকে জোর করে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে হায়দরাবাদ এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে রাত আড়াইটার মুমূর্ষু অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন এলাকাবাসী। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার দুই পায়ের হাড় একেবারে ভেঙে গেছে।
এ বিষয়ে আহতের হুব শ্বশুর ইব্রাহীম বলেন, এ ঘটনার পর শুক্রবার দুপুরের পর প্যান্ডেল, বিয়ের আসন খুলে ফেলেছেন এবং মুঠোফোনে মেহমানদের নিষেধ করেছি।
রুবেলের ফুফা জামাল হোসেন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলায় গত বুধবার রাতে পুলিশের উপ-পরিদর্শক আলী আকবর ও ফিরোজ উদ্দিনসহ ৫ পুলিশ সদস্য রুবেলকে ধরে নিয়ে নির্মমভাবে পেটায়। এতে তার দুই পায়ের হাড় ভেড়ে যায়।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, অভিযোগের তদন্ত না করে আসামি ধরতে যাওয়ার অপরাধে এসআই আলী আকবরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে অপর এসআই ফিরোজের ব্যাপারে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলী আকবর রুবেলকে পোটানের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, রুবেলের বিরুদ্ধে সোহেল নামে একজন বাদী হয়ে মামলা করলে তাকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিলাম। এ সময় রুবেল পালাতে গিয়ে পা ভেঙেছে বলে অভিযোগ করে তিনি।
এদিকে বিয়ে বাড়ি থেকে বরকে তুলে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত জয়দেবপুর থানার এসআই আলী আকবর ও এসআই ফিরোজ উদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যদের শাস্তি দাবি করেছেন।
/এমওি/এসএনএইচ/








