বিভাগীয় শহর খুলনায় অবস্থিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সিটি স্ক্যানিং মেশিনটি পাঁচ মাস ধরে অকেজো। এর ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এ হাসপাতালে আসা রোগীদের। এতে একদিকে রোগীদের ২-৩ গুণ অর্থ বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে, অপরদিকে চিকিৎসকরাও সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকে আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ রোগীদের।
এদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে শুধুমাত্র মেশিন নষ্টের পত্র দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন। এ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
২০০৯ সালে খুমেক হাসপাতালে সিমেন্স কোম্পানির তৈরি সিটি স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করা হয়। এর ৭ বছর পর চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে মেশিনে ত্রুটি দেখা দেয়, যা ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় ৫ মাস এ হাসপাতালে সব ধরনের সিটি স্ক্যানিং বন্ধ রয়েছে।
মহানগরীর গিলাতলা এলাকার আশরাফ-উল-আলম অভিযোগ করেন, ব্রেন, হার্ট, ডায়াবেটিস ও অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগের কারণে তার বাবাকে ৯ মে খুমেক হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ৮নং কেবিনে ভর্তি করেছেন। ওই দিন রাতেই মেডিক্যাল অফিসার ডা. সিদ্ধার্থ বাওয়ালী রক্তের ৩টি পরীক্ষা দেন এবং বলেন বাইরে থেকে লোক এসে রক্ত নিয়ে যাবে। রাতে জনৈক ব্যক্তি রক্ত নিয়ে হাসপাতালের বাইরে যেতে চান। তিনি এর কারণ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি হাসপাতালের সামনের খুলনা হেলথ গার্ডেন নামক প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছেন। রক্ত পরীক্ষার জন্য ১ হাজার ৭০০ টাকা বিল করা হয়। এরপর মঙ্গলবার দুপুরে ডা. সিদ্ধার্থ বাওয়ালী আবারও তার বাবাকে সিটি স্ক্যানিং করতে মহানগর ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বলেন কারণ হাসপাতালের সিটি স্ক্যানিং মেশিনটি নষ্ট।
আরও পড়ুন: আন্দোলনে সংহতি জানাতে রাবি যাচ্ছেন ৩ মন্ত্রী
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খুমেক হাসপাতালে সিটি স্ক্যানিং করাতে সর্বনিম্ন ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। কিন্তু বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে এটি করাতে হলে সর্বনিম্ন ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হয়। আর সরকারি হাসপাতালের মেশিন নষ্টের অজুহাতে চিকিৎসকরা বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকে কমিশন বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ করেন গোয়ালখালি এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ডিএম রেজা সোহাগ। তিনি মেশিন নষ্টের প্রকৃত কারণ এবং মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান।
হাসপাতালের ল্যাব বিভাগের ইনচার্জ এসএম আলতাফ হোসেন জানান, সিটি স্ক্যানিং মেশিনের পাওয়ার কন্ট্রোল বক্স নষ্ট হয়ে গেছে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিমেন্স বাংলাদেশের টেকনিশিয়ানরা এসে দেখে এটি মেরামতের জন্য ৪৮ লাখ টাকার চাহিদাপত্র করেছে। যা কর্তৃপক্ষ আরও কমাতে বলেছেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ছাড় হলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেইনেন্স অ্যান্ড পিসি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের (ওয়ার্ক অর্ডার) পর জার্মান থেকে পার্স আমদানি করা হবে। এতে সপ্তাহ খানেক সময়ের প্রয়োজন হতে পারে।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. আনন্দ মোহন সাহা বলেন, সিটি স্ক্যানিং মেশিন নষ্টের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এর টেন্ডারও হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি এটি ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
আরও পড়ুন: বর্ধমানে বোমা হামলাকারীর সহযোগী জেএমবি নেতা ঢাকায় গ্রেফতার
/এআর/






