ভারতের বর্ধমানে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) নেতা মো. নাঈমের সহযোগী ও সংগঠনটির ঢাকা জেলার আমির আব্দুল বাতেন ওরফে খাইরুল ইসলাম ওরফে মামুনুল হককে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তার চার সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিস্ফোরক, আগ্নেয়াস্ত্র, জিহাদী বই ও পেট্রোল বোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে র্যাব সদর দফতরে বাহিনীর মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘২০১৪ সালের ২ অক্টোবর ভারতের বর্ধমানে জেএমবি বোমা হামলা চালায়। এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশের তৎকালীন জেএমবি’র শীর্ষ নেতা শেখ রহমতুল্লাহ ওরফে মাছুম ওরফে সাজিদ এবং মো.নাঈমের নাম উঠে আসে। আব্দুল বাতেন নাঈমের সহযোগী। সাজিদ ও নাঈম পলাতক থাকায় বাতেন আমিরের দায়িত্ব পায়।’
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর খিলগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে জেএমবির ঢাকা জেলার ভারপ্রাপ্ত আমির মো. আব্দুল বাতেন (২৫) ও গুলশান বাড্ডার দায়িত্বপ্রাপ্ত সক্রিয় সদস্য মো. মনির মোল্লা ও ওরফে মনিরকে (২৯) গ্রেফতার করে র্যাব-৩। এসময় বাতেনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘এই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যায় নাশকতা চালানোর জন্য চট্টগ্রাম থেকে কয়েকটি গ্রুপ ঢাকাতে প্রবেশ করবে।পরে রাত ১টার দিকে কমলাপুর রেল স্টেশনে তাদের নিয়ে অভিযান চালানো হয়।এসময় গোলাম কিবরিয়া ওরফে আক্তার (৬২) ও মো. রোমান খানকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়।তাদের কাছ থেকে পাঁচটি কার্টন ভর্তি বিস্ফোরক ডিভাইস,এক কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য,১৭ টি পেট্রোল বোমা ও জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়।’
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন,‘জেএমবি সবসময় নাশকতার সুযোগ খুঁজে। বৃহস্পতিবার হরতালের সুযোগে নাশকতা চালিয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তারা। গোলাম কিবরিয়া ২০০৭ সাল থেকে জেএমবির সঙ্গে জড়িত।তিনি এই জঙ্গি সংগঠনের ফাণ্ড গঠনে সহায়তা করতেন। বয়স বেশি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে কেউ সন্দেহ করতেন না। এই সুযোগে তিনি জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডারদের তথ্য আদান-প্রদান করতেন। তিনি বিস্ফোরক বহন করতেন।’
‘চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের আরও কিছু দুর্গম এলাকায় তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। তাদের অর্থের সহায়তাকারীদের বিষয়েও আমরা তথ্য পেয়েছি। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে অভিযান চালানো হবে। বেশকিছু আঞ্চলিক এলাকায় জেএমবির নতুন কমান্ডার তৈরি হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জেএমবির এই গ্রুপটির কি ধরনের টার্গেট ছিল তা তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যাবে।’ বলেন মুফতি মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘জেলখানায় জেএমবির যে সদস্যরা আছেন তারা মাঝেমাঝে নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। এরকম দালিলিক প্রমাণ আমরা পেয়েছি।’
পেট্রোল বোমার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘পেট্রোল বোমা সাধারণত যানবাহনে হামলা জন্য ব্যবহৃত হয়।এরা যানবাহন ছাড়া আর কোনও উদ্দেশ্য তাদের রয়েছে কিনা তা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যাবে।’
র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ৬১২ জন সক্রিয় জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বলেও মুফতি মাহমুদ দাবি করেন। জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গি সদস্যদের তারা নজরদারিতেও রাখেন বলে বিফ্রিংয়ে জানান।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনকে প্রতিহত করার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের ডাকা টানা ৯৩ দিনের অবরোধে দেশব্যাপী যানবাহন ও স্থাপনায় পেট্রোল বোমা হামলা চালায় দৃর্বৃত্তরা। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৬ নিহত হয়। এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি জামায়াতসহ তাদের মিত্র দলগুলোর নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়।
/এআরআর/ এমএসএম/;







