সাতক্ষীরায় সুন্দরবনের গড়ান নদীতে মাছ ধরে ফেরার সময় ৫ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় বনরক্ষীরা। এ সময় তারা জেলেদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকার মাছ ও একটি নৌকাসহ ব্যবহৃত যাবতীয় মালামাল লুট করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, সাতক্ষীরা রেঞ্জ পশ্চিম সুন্দরবনের গহীনে মাছ ধরার সময় ৫ জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে ভারতীয় বনদস্যু সুমন মাস্টার ও কানাই বাহিনীর সদস্যরা। বৃহস্পতিবার সুন্দরবনের গহীন থেকে ফিরে আসা জেলেরা এসব জানিয়েছেন।
ভারতীয় বনরক্ষীদের হাতে আটক জেলেরা হলেন- রমজাননগর ইউনিয়নের পার্শ্বেখালী গ্রামের জুব্বার সরদারের ছেলে আজিজ সরদার (৪৫) এবং একই এলাকার গফুর সরদারের ছেলে ইশারাত (১৮), সুলতান গাজীর ছেলে খোকন গাজী (২৮), জহুর গাজীর ছেলে আলিম গাজী (২৫) ও মৃত মানিক শেখের ছেলে মোকছেদ শেখ (৫৫)। গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
অন্যদিকে, ভারতীয় বনদস্যুদের হাতে অপহৃত জেলেরা হলেন- রমজাননগর ইউনিয়নের পার্শ্বেখালী গ্রামের মৃত গোলাপ গাজীর ছেলে মোশারফ গাজী (২৫) এবং একই গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে শফিকুল গাজী (৩৫), সুরত গাজীর ছেলে আতিয়ার গাজী (২৫), নূর আলী গাজীর ছেলে ফজলু গাজী (৪০) ও টেংরাখালী গ্রামের গফুর সরদারের ছেলে ফজর আলী (২৫)। বুধবার সকাল ৯টার দিকে সুন্দরবনের ছায়া কপ্পুরী এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়।
ভারতীয় বনরক্ষীদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া জেলে আজিজ সরদার জানান, মাছ ধরে বাড়িতে ফেরার সময় ভারতীয় বনরক্ষীরা জেলেদের আটক করে ভারতীয় সীমান্তে নিয়ে যায়। এসময় অন্য জেলেদের কাছ থেকে ২ লাখ টাকার মাছ ও একটি নৌকাসহ ব্যবহৃত যাবতীয় মালামাল লুট করে তারা। পরে ৫ জেলেকে আটকে রেখে বাকিদের সুন্দরবনের বুড়ির ডাবুর খালে ছেড়ে দেয়। বাঘের ভয়ে সারারাত কেওড়া গাছে কাটিয়ে বৃহস্পতিবার অন্য একটি নৌকাযোগে বাড়িতে ফেরেন তারা।
এছাড়া বনদস্যুদের হাত থেকে পালিয়ে আসা জেলে পার্শ্বেখালী গ্রামের রাজ্জাক সরদার জানান, বন অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে নদীতে মাছ ধরার সময় বনদস্যু সুমন মাস্টার ও কানাই বাহিনীর সদস্যরা জেলেদের অপহরণ করে ভারতীয় সীমান্তে নিয়ে যায়। জেলেদের মুক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা কৈখালী বনস্টেশন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
আরও পড়ুন: মহেশখালীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী বাদশা গ্রেফতার
/এমও/টিএন/
আপ: এইচকে








