খুলনা থেকে গত ১২ মে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া তিন যুবকের সন্ধান পাওয়া গেছে। যাত্রাবাড়ী থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাস বিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা রিমান্ডে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ যুবকরা হলেন, মো. মনিরুল ইসলাম বাবু (২৮), মো. আব্দুল্লাহ আল সায়েম তুর্য (২৫) ও মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৬)। গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ ছিল তাদের পরিবারের। দীর্ঘ একমাস পর গত ১২ জুন তাদের গ্রেফতার দেখিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বুধবার রাতে বলেন, খুলনার এই তিন যুবককে গত ১২ জুন ডিএমপির ডিবি’র পক্ষ থেকে একটি সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ডিবি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে। মামলার তদন্তও ডিবি থেকে করা হচ্ছে। আসামিরা ডিবি হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে মামলার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
অপরদিকে, একমাস পর সন্তানের খবর শুনে সুখের কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন খুলনার এই তিন যুবকের মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা। তবে তাদের মুখে একটিই কথা সেটি হচ্ছে, ‘ছেলে বেঁচে আছে, এটিই বড় সান্ত্বনা।’ এর জন্য তারা আল্লাহ’র কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন।
সন্তানের খবর পেয়ে আবেগ-আপ্লুত হয়ে মো. আব্দুল্লাহ আল সায়েম তুর্যর বাবা মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কলিজার টুকরো সন্তান বেঁচে আছে, এটিই হচ্ছে সব থেকে বড় সান্ত্বনা, আর কিছু চাই না। এখন ছেলেকে কীভাবে ছাড়িয়ে আনা যায় সেজন্য তিনি ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
মনিরুল ইসলাম বাবুর বাবা মাসুদুর রহমান বলেন,‘ছেলেকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন,এটিই বড় কথা। ছেলের খবরে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন।’
শোয়াইব বিশ্বাসের বাবা মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘শোয়াইব পরিবারের বড় ছেলে। নিখোঁজের পর থেকে তার মা এবং ছোট ভাই-বোনেরা খুবই ভেঙে পড়ে। এখন তাদের মুখে হাসি ফিরে এসেছে। এমনকি তার মসজিদের মুসল্লিরাও শুকরিয়া আদায় করেছেন।’
পরিবার ও পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে খালিশপুরের বয়রা সিএসডি গোডাউনের নিরাপত্তা কর্মী মাসুদুর রহমানের ছেলে ইলেট্রিক মিস্ত্রি মো. মনিরুল ইসলাম বাবু (২৮) এবং হরিণটানা থানা এলাকার খুলনা বাইপাস সড়কের মোস্তর মোড় সংলগ্ন বিসমিল্লাহ নগর মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহ আল সায়েম তুর্য (২৫) ও একই মাদ্রাসার শিক্ষক শোয়াইব বিশ্বাসকে (২৬) ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়। ১৩ মে মনিরুল ইসলাম বাবুর বাবা মাসুদুর রহমান খালিশপুর থানায় জিডি করেন। একই দিন তুর্যের পিতা অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম হরিণটানা থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এছাড়া শোয়াইব বিশ্বাসের পিতা মাওলানা আব্দুস সাত্তার ১৩ মে খালিশপুর থানায় জিডি করেন। ২৬ মে গুম হওয়া সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাবে তারা সংবাদ সম্মেলন করেন।
/জেবি/টিএন/
আপ: এইচকে
আরও পড়ুন: চাঁপাই সদর উপজেলার কার্যক্রম স্থবির, ফেরত যাচ্ছে বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি টাকা








