খুলনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান সিফাত নামে এক ছাত্রকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার বিকালে খালিশপুরে বিআইডিসি রোডের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিখোঁজ উল্লেখ করে খালিশপুর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
সিফাত নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) কোর্সের পরীক্ষা গত মে মাসে সম্পন্ন করেছেন।
রিফাতের পরিবারের দাবি, সোমবার বিকালে সিফাত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনাডাঙ্গার ক্যাম্পাস থেকে খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অবস্থিত বাড়ির সামনে খালিশপুরে বিআইডিসি রোডের সামনে এলে একটি কালো মাইক্রোবাসে করে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে সোমবার রাতে খালিশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র্যাব সদস্য ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যদের বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সিফাতের মা সাজেদা বেগম বলেন, সিফাত ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করত। সে কোরআন ও হাদিসের আলোকে কথা বলে এবং নিজেও পালন করে। সে মুখে লম্বা দাড়ি রেখেছে। ফেসবুকেও সে লেখালেখি করত। ইসলামের পক্ষে থাকা কোনও অপরাধ হতে পারে না। আর যদি অন্য কোনও অপরাধ করেও থাকে তার শাস্তি হতে পারে। কিন্তু তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের দেখা উচিত।
তিনি আরও বলেন, গত রবিবার দুপুরে অপিরিচিত একজন বাসায় এসে সিফাতের খোঁজ করেছিল। কিন্তু বাসায় না পেয়ে চলে যায়। এরপর সোমবার দুপুরে সিফাত নামাজ পড়তে মসজিদে যায়। সেখানেও একজন তার সঙ্গে কথা বলে। এরপর বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাওয়ার জন্য বের হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খবর আসে সিফাত পাওয়ার হাউজ মোড়ে নামার পর একটি কালো মাইক্রোবাসে কে বা কারা তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গেছে।
সিফাতের মামা মোমিনুর রহমান জানান, ঘটনার সময় তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। সিফাতকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি বেরিয়ে আসেন এবং গেটের সামনে যান। সেখানে তিনি জানতে পারেন সিফাত গেটের সামনে নামার পরই একটি কালো মাইক্রোবাস থেকে ৪-৫ জন লোক নেমে তাকে জোর করে ওই মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। তাদের পেছনে আরেকটি সাদা মাইক্রোবাসও ছিল। সিফাতকে কালো মাইক্রোবাসে ওঠানোর পর দুটি মাইক্রোবাসই একসঙ্গে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন পেছনের সাদা মাইক্রোবাসটির নম্বরটি লক্ষ্য করেছিল, নম্বরটি হচ্ছে ৫৩-৫২৯০। এরপর তিনি খালিশপুর থানায় ফোন করে খবর নেন। কিন্তু, সেখান থেকে জানানো হয় পুলিশ কাউকে আটক করেনি।পরে তিনি খালিশপুর ডিবি অফিসে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকেও বলা হয় তারা খোঁজ খবর নিয়ে জানায় ডিবির এ ধরনের কোনও অভিযান হয়নি। পরে খালিশপুর থানায় সিফাতের বাবা একেএম মোশারফ হোসেন একটি জিডি করেছেন।
সিফাতের মামা আরও বলেন, সিফাতের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই র্যাবকে জানানো হয় এবং মঙ্গলবার সকালে র্যাবের কাছে সিফাতের ছবিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়। এছাড়া খালিশপুরে অবস্থিত এনএসআই অফিসে গিয়েও বিষয়টি জানানো হয়েছে ।
সিফাতের মামার অভিযোগ, আমি মনে করি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই সিফাতকে ধরে নিয়েছে। তাই তাকে গুম অবস্থায় না রেখে প্রকাশ্যে আনা হোক এবং তার বিচার করার মতো অপরাধ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা করা হোক। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, দাড়ি রাখা কোনও অপরাধ নয়।
সিফাতের বড় বোন মেহেরুন নেছা বলেন, সিফাত কোরআন ও হাদীসের আলোকে কথা বলে, সে জঙ্গি না। তাকে কী কারণে জোর করে তুলে নিয়ে গুম করা হলো তা প্রশাসনকে কঠোরভাবে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে খালিশপুর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল খয়ের জানান, এ ধরনের ঘটনা শুনেছি। থানায় যুবকটির পরিবার তাকে নিখোঁজ উল্লেখ করে একটি জিডি করেছে। তিনি আরও জানান, দেশের সব জেলায় তাকে খুঁজতে বেতার বার্তা পাঠিয়েছেন তারা। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জঙ্গি নিবরাসের আশ্রয়দাতা দু’জনকে আটকের ২০ দিন পর থানায় সোপর্দ
/এআর/টিএন/








