আদম ব্যবসায়ীর সহায়তায় বিদেশে পাড়ি জমানোর পর দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের দিনমজুর মনিরুল ইসলাম মনির (৩৪) নামে এক ব্যক্তি ইরাকে দালালের হাতে বন্দি রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একইসঙ্গে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অমানুষিক নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে পরিবারের কাছেও পাঠিয়েছে ইরাকে অবস্থানরত বাংলাদেশের দালাল নোয়াখালীর জসিম । মনিরের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করেছে ২১ লাখ টাকা। টাকা পরিশোধ না করলে বারবার দেওয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি।
মামলার এজাহার ও এলাকাসূত্রে জানা গেছে, মনিরকে মোট অঙ্কের বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ওই গ্রামের আদম ব্যাপারি তেতুল মণ্ডলের ছেলে সবুর (৪০)। তিনি মাস দুয়েক আগে মনিরকে নিয়ে ইরাকে পাড়ি জমায়। ওখানে পৌঁছানোর পর মনিরকে ইরাকে অবস্থানরত দালাল নোয়াখালীর জসিমের হাতে তুলে দেয় সবুর । মনিরকে জিম্মায় রেখে কৌশলে বাড়ি ফিরে আসে সবুর। এরপর দালাল জসিম ভিসা বাবদ সবুরের কাছে ২১ লাখ টাকা পাবে বলে মনিরকে জানায়। আর এ কারণেই তাকে এখানে জিম্মায় রেখে গেছে। ওই টাকা সে যদি ব্যবস্থা না করে তাহলে তাকে মেরে ফেলা হবে।
এরপর থেকেই মনিরের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকে দালাল জসিম। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মনির বিষয়টি তার পরিবারের কাছে জানায়। এ কথা শুনে মনিরের ভাই বুলবুলসহ তার পরিবারের লোকজন ছুটে যায় আদম ব্যাপারি প্রতিবেশী সবুরের বাড়িতে। পরে সবুর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কৌশলে এলাকা ত্যাগ করে। বর্তমানে তার বাবা তেতুল মণ্ডলও বাড়িতে তালা লাগিয়ে সপরিবারে সটকে পড়েছেন।
কোনও উপায় না পেয়ে মনিরকে জীবিত ফিরে পেতে তার পরিবারের লোকজন সহায় সম্বল বিক্রি করে ৭ লাখ টাকা পাঠায় জসিমের কাছে। এরপর জসিম মুক্তিপণ হিসেবে মনিরের পরিবারের কাছে আরও ১১ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না পেয়ে মনিরের ওপর বাড়িয়ে দেওয়া হয় নির্যাতনের মাত্রা। এরপর কয়েক দফায় মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয় জসিম।
ভাইকে জীবিত ফিরে পেতে মনিরের ভাই বুলবুলসহ তার পরিবারের লোকজন যখন দিশেহারা ঠিক ওই সময়ে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় গ্রামেরই এক প্রভাবশালী নেতা ইয়াছনবী। সে মনিরের পরিবারের লোকজনকে জানায়, ঢাকায় তার এক পরিচিত ওসি আছে। তিনি ওই ওসিকে দিয়ে নোয়াখালী থেকে জসিমের বাবাকে ধরে এনে মনিরের মুক্তির ব্যবস্থা করবে। মনিরের পরিবারের লোকজন তার কথায় রাজি হয়। ধার দেনা করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা তুলে দেয় ওই নেতার হাতে।
এ বিষয়ে মনিরের ভাই ইমরোজ জানায়, তিনি ইয়াছনবীর হাতে ৭৪ হাজার টাকা তুলে দেয়। এছাড়া মাইক্রোভাড়া বাবাদ ১৮ হাজার টাকা, হোটেল ভাড়াবাবদ ৬ হাজার টাকা, খাওয়া খরচ বাবদ ৩ হাজার টাকা সর্বমোট ১ লাখ ১ হাজার টাকা ওই দু দিনে খরচ হয়। কিন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তিনি জানান ইয়াছনবী তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশকিছু গ্রামবাসী জানান, ওই ইয়াছনবীই হচ্ছে নাটের গুরু। সেই পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে। তাকে গ্রেফতার করলেই মনির মুক্ত হয়ে দেশে ফিরতে পারবে।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আবু জিহাদ মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, মনিরের ভাই বুলবুল বাদী হয়ে আদম ব্যাপারি সবুরসহ মোট ৫ জনকে আসামি করে আমলি আদালতে মামলা করেছেন। ওই মামলাটি বৃহস্পতিবার নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ডভূক্ত করা হয়েছে।
ইয়াছনবীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু ওই মামলায় ইয়াছনবীকে আসামি করা হয়নি সে কারণে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে তার বিরুদ্ধে এলাকার লোকজন মৌখিকভাবে আমার কাছে বেশকিছু অভিযোগের কথা জানিয়েছে। আমরা সেগুলো খতিয়ে দেখছি। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।
/এআর/
আপ: এইচকে








