বাঘারপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র খলিলুর রহমান বিশ্বাসকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে পৌরভবন নির্মাণের দায়ে বিএনপির এই সাবেক নেতাকে কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা এই রায় দেন।
এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত খলিলুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের মৃত আমির আলীর ছেলে মশিয়ার রহমান ওরফে মশু বাদী হয়ে যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা করেন।
বাদীর দাবি, দোহাকুলা হাট পেরিফেরির আধাশতক জমি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নিয়ে তিনি একটি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। পরে নবগঠিত পৌরসভার তৎকালীন মেয়র খলিলুর রহমান বিশ্বাস বেআইনিভাবে তার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানটি উচ্ছেদ করে সেখানে পৌরসভার ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেন। মামলাটির একমাত্র আসামি ছিলেন তৎকালীন খলিলুর রহমান বিশ্বাস।
জেলা ও দায়রা জজ পিটিশন মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়কে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুদক দীর্ঘ তদন্ত শেষে খলিলুর রহমানকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। শুনানি শেষে মঙ্গলবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে একমাত্র আসামি খলিলুর রহমান বিশ্বাসকে দুইবছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয়মাস কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
বাদী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এসএম বদরুজ্জামান পলাশ। বিবাদী পক্ষে ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী আবদুস শহীদ লাল।
দণ্ডপ্রাপ্ত খলিলুর রহমানের আইনজীবী কাজী আবদুস শহীদ লাল জানান, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন।
খলিলুর রহমান বিশ্বাস বাঘারপাড়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র। পৌরসভা গঠিত হওয়ার পর বিএনপির তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের মৃত সুফি আবু দাউদ হোসেনের ছেলে।
খলিলুর রহমান ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন। নির্বাচনের পর পরই তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য রণজিৎ কুমার রায়ের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য টিএস আইয়ুব এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
/এবি/








